যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হুমকিতে, সংঘাত থামানোর আহ্বান পাকিস্তানের

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে পাকিস্তান দুই পক্ষকেই সহিংসতা পরিহার করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য চাপ দিয়ে যাবে।

তাহির আনদাবি
তাহির আনদাবি |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সাথে দেশটি স্বীকার করেছে যে, তাদের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ১৬ জুলাই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাবি তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে পাকিস্তান দুই পক্ষকেই সহিংসতা পরিহার করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য চাপ দিয়ে যাবে। সরাসরি আলোচনার পর সুইজারল্যান্ডে গত ২০ জুন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতি এবং সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই আলোচনা শুরুর তাগিদ দেন তিনি।

এমন এক সময়ে পাকিস্তানের এই আহ্বান এলো, যখন দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবারও মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। জবাবে ইরানও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাবি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ওপর বিশেষ জোর দেন। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করার পর এবং মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই যেত। এখন সামরিক অভিযানের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি ছড়াচ্ছে। এমনকি এর প্রভাবে গত ১০ জুলাই পাকিস্তানও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতারের আমির এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ফোনে কথা বলেন। একই দিনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার সৌদি ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

গত ১৮ জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানো। কিন্তু ৮ জুলাই থেকে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করেছেন, যদিও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাত দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সর্বশেষ দফায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সোমবারের হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।