আঞ্চলিক ‘নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকা’ নিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিকরা ফোনে আলোচনা করেছেন। তেহরান বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে দুই দেশ ইয়েমেনে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করলেও সাম্প্রতিক লড়াই নিয়ে আলোচনায় কোনো কথা হয়নি।
তেহরান ইয়েমেনের হাউছিদের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়। গোষ্ঠীটি কয়েক বছর ধরে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বৃহস্পতিবার তারা কৌশলগত লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়।
রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। হাউছিরা অগ্রযাত্রা শুরু করার পর থেকেই সৌদি আরব তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে আসছে বলে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা’ নিয়ে আলোচনা করেন।
ফোনালাপের বিবরণে বলা হয়, উভয় পক্ষ ‘উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে’।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ইয়েমেনের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইয়েমেনে চলমান লড়াই নিয়ে আলাদা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েমেনের সঙ্কট সমাধান করা অসম্ভব।’
হাউছিরা কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও প্রধান বন্দরনগরী হোদেইদা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সুয়েজ খালের মাধ্যমে এ পানিপথ এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করেছে। বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে আরো গুরুত্ব পেয়েছে। ওই যুদ্ধে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাউছিরা লোহিত সাগরে নৌযান চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম হয়েছে। সৌদি বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের চেষ্টার পাশাপাশি তারা দেশটির তেল অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।
বুধবার হাউছিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, গোষ্ঠীটি দক্ষিণ সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : বাসস



