ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরাকের সরকারি বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, হামলার পর ফোনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে করণীয় এবং যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ইরাকের বার্তা সংস্থা জানায়, দুই মন্ত্রী সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার ওমানে ইরাক, ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠক নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
শনিবার এর আগে ইরাক জানিয়েছিল, সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ব্যবহৃত একটি রকেট লাঞ্চার প্ল্যাটফর্ম তারা নিজেদের ভূখণ্ড থেকে জব্দ করেছে। একই সাথে তদন্তে ইরানকে অংশ নেয়ার অনুমতিও দিয়েছে বাগদাদ।
ইরাক জানিয়েছে, পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে ইরানের সীমান্তবর্তী দেশটির মায়সান প্রদেশের একটি স্থান থেকে। এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বাগদাদ ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে।
সৌদি আরব শুক্রবার জানায়, ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন দিয়ে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রিয়াদ জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তারা ‘এই পর্যায়ে’ কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না। তবে বাগদাদকে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকানোর সময় দেয়া হচ্ছে। একই সাথে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকারও সংরক্ষণ করছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী এলাকা থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি। হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকায় এই পাইপলাইন ব্যবহার করে সৌদি আরব প্রণালীটি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে।



