সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেফতার

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে শহর ও গ্রামে প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেয়ার অভিযোগে নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা
সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা |সংগৃহীত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে শহর ও গ্রামে প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেয়ার অভিযোগে নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজন জেনারেলও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকা ও জনবসতিতে ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়ে আসছিল। এরপর দেশটিতে বর্তমান ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে।

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়ায় একাধিক অভিযান চালানোর পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রেফতাররা ‘সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে’ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় জড়িত ছিলেন।

গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন তিন জেনারেল—মেনহেল আনোয়ার সালেহ, সামি ইব্রাহিম মাহমুদ ও গিয়াথ আলি রেহিয়ে।

সানা জানিয়েছে, তাদের চালানো হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন। পাশাপাশি শহর ও গ্রামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। এসব ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় গত এপ্রিল মাসে।

সোমবার সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সাবেক এক জেনারেলকেও গ্রেফতার করেছে। ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানে এবং ১৯৮২ সালের হামা হত্যাকাণ্ডে ওই জেনারেল জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ওই বিক্ষোভ থেকেই পরে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

গত আগস্টে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরো পাঁচ সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন সরকারের আমলে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম রায়।

ক্ষমতা হারানোর পর বাশার আল-আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি রাশিয়ায় বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : বাসস