জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়। একই সাথে ঘাঁটিটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হামলার আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এই অভিজাত ইউনিট বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জর্ডান সরকার কিংবা মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে জর্ডানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্রের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনা সত্য হলে তা বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অঞ্চলটিতে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা



