ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজা উপত্যকায় গড়ে তোলা ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে।
কাটজের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাতে দুই মন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়।
এ সময় কাটজ ‘সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে ইসরাইলের দৃঢ় অবস্থান’ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহী বাহিনীর হুমকি থেকে ইসরাইলের সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন জনপদগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এ সিদ্ধান্ত।
কাটজ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে আমাদের হয়ে কাজ করার জন্য আমরা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করিনি।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, সিরিয়ায় ইসরাইলের সেনা মোতায়েন দেশটিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘তারা আপনাদের সেখানে চায় না। আপনাদের সেনা অন্যত্র মোতায়েন করা উচিত।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরাইল গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যকার জাতিসঙ্ঘ তত্ত্বাবধানে থাকা বাফার জোনে সেনা পাঠায়।
এর পর থেকে ইসরাইল সিরিয়ার ভূখণ্ডে একাধিকবার অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সাথে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী এখনো মোতায়েন রয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা অঞ্চলে তারা অবস্থান করছে।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে দেয়ার পর দুই দেশ সংঘাতের অবসানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার রোমে দুই দেশের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা এ আলোচনার লক্ষ্য, দক্ষিণে ইসরাইল ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে থাকা দু’টি ‘পাইলট জোন’ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা।
গাজায় ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া ইসরাইল ও মিসরের সীমান্তসংলগ্ন পুরো বাইরের পরিধিজুড়েও তাদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
সূত্র: বাসস



