মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। প্রায় আট মাস মধ্যপ্রাচ্যের সমূদ্রে অবস্থানের পর রণতরীটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে অবস্থানরত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টার কিছু পর সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি পানিসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই রণতরীটি দেখতে পান।
দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে লিংকন মোট ২৬৬ দিন বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতারীটি, যা আধুনিক যুগে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও চলতি মাসের শুরুতে জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে। এ সময় এর স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় এবং অপারেশনাল উপস্থিতি শুরু করে।
তবে দীর্ঘ এই মোতায়েন এবং জাহাজে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের মনোবল কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সাময়িক ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়।
বিভিন্ন সামরিক গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জাহাজের টয়লেট ও পানি সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। এমনকি, মোতায়েনের সময় আত্মহত্যার চেষ্টা এবং নাবিকদের জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে রণতরীতে ব্যাপক মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর ভাষ্য, লিংকনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি এবং নাবিকদের জন্য চিকিৎসা, ধর্মীয় ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পেশাজীবীরা সেখানে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও লিংকনে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণভাবে ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও জাহাজটির নাবিকদের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘ মোতায়েনের সময় তারা নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছালেও মিশনের সব চাহিদা পূরণ করে গেছেন।
থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফেরার আগে বিশ্রাম ও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডের একটি বন্দর সফর করবে।
সূত্র : ইউএনবি



