কোজো ওকামতোর মৃত্যু: ফিলিস্তিনিদের হয়ে লড়েছেন যে জাপানি যোদ্ধা

ফিলিস্তিনিদের কাছে 'আহমদ আল-ইয়াবানি' বা 'জাপানি আহমদ' নামে পরিচিত এই যোদ্ধা লেবাননে স্থায়ী হওয়ার পর খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন না। তবে ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
৩০ মে ২০২২ তারিখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে লর্ড আক্রমণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে 'ভি' বা জয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন কোজো ওকামতো (মাঝে)।
৩০ মে ২০২২ তারিখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে লর্ড আক্রমণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে 'ভি' বা জয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন কোজো ওকামতো (মাঝে)। |সংগৃহীত

৭৮ বছর বয়সে কোজো ওকামতোর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান হলো আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের এক উত্তাল অধ্যায়ের। ১৯৭২ সালে ইসরাইলের লর্ড বিমানবন্দরে ঐতিহাসিক গেরিলা আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসা এই জাপানি বিপ্লবীর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন লেবাননে। দীর্ঘ দিন রোগে ভোগের পর বৃহস্পতিবার বৈরুতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক বার্তায় খবরটি নিশ্চিত করেছে 'পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন' (পিএফএলএফ)। বহু বছর ধরে তারাই লেবাননে ওকামতোকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছিল।

মিডলইস্ট আই শুক্রবার(২৪ জুলাই) জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের কাছে 'আহমদ আল-ইয়াবানি' বা 'জাপানি আহমদ' নামে পরিচিত এই যোদ্ধা লেবাননে স্থায়ী হওয়ার পর খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন না। তবে ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি। পিএফএলএফ তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আপসহীন এক যোদ্ধা, যিনি কখনো মূল নীতি থেকে পিছু হটেননি।

১৯৭২ সালের ৩০ মে জাপানিজ রেড আর্মির সদস্য ওকামতো ও তার দুই সঙ্গী ইউরোপ থেকে বিমানে ইসরাইলের তৎকালীন লর্ড বিমানবন্দরে (বর্তমান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর) নামেন। সঙ্গে থাকা রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করলে ২৬ জন নিহত হন। পাল্টা হামলায় ওকামতোর দুই সঙ্গী নিহত হন এবং আহত অবস্থায় ওকামতো ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পিএফএলএফ জানায়, ১৯৬৮ সালে বৈরুত বিমানবন্দরে ইসরাইলি হামলার জবাবে এই প্রতিরোধ অভিযান চালানো হয়েছিল।

ইসরাইলি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কারাগারে ১২ বছরের বন্দিজীবনে তাকে চরম নির্যাতন ও নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। এমনকি হাত পেছনে বেঁধে কুকুরের মতো মেঝে থেকে খাবার খেতে বাধ্য করা হতো। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তিনি মুক্তি পেয়ে লেবাননে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

১৯৯৭ সালে লেবানন সরকার ওকামতোসহ পাঁচ জাপানিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে। ২০০০ সালে বাকিদের টোকিওর হাতে তুলে দিলেও বৈরুত ওকামতোকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়। বিচারে তিনি নিজেকে সদেভেদে 'একজন আরব প্রতিরোধ যোদ্ধা' হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে গঠিত বামপন্থী জাপানিজ রেড আর্মি ফিলিস্তিনি সংগ্রামের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। ওকামতো শেষ দিন পর্যন্ত লেবাননে ছিলেন। নিজ দেশ ছেড়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধকামী মানুষ।