ইসরাইলেও আঘাত হানতে সক্ষম তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ‘টাইফুন-৪

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রকেটসানের নকশায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ মিটার এবং ওজন প্রায় ৭ দশমিক ২ টন। আগের সংস্করণের তুলনায় এটি আরো ভারী, দীর্ঘ ও আধুনিক।

সোহানুর রহমান
ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম- এমন দূরপাল্লার নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘টাইফুন-৪’ নিজেদের সমরভাণ্ডারে যুক্ত করেছে তুরস্ক। তুর্কি গণমাধ্যমের বরাতে এমন তথ্য সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রকেটসানের নকশায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ মিটার এবং ওজন প্রায় ৭ দশমিক ২ টন। আগের সংস্করণের তুলনায় এটি আরো ভারী, দীর্ঘ ও আধুনিক।

শুধু দীর্ঘ পাল্লাই নয়, ‘টাইফুন-৪’-এর বড় বৈশিষ্ট্য এর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা। উড্ডয়নের শেষ পর্যায়েও লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারায় প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ঘণ্টায় কয়েক হাজার কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

আর এই সক্ষমতাই তুরস্ককে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দিচ্ছে- এমন বিশ্লেষণও রয়েছে।

তবে ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা এখনই এটিকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন না। কারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরাইলের রয়েছে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা- অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিড’স স্লিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলার অভিজ্ঞতার কারণে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা কাঠামো এমন হামলার জন্য প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ‘টাইফুন-৪’-এ পারমাণবিক নয়, প্রচলিত ওয়ারহেড ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। ফলে এর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় অনেক কম। একই সাথে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে।

তাই ইসরাইলি বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ মনে করছেন, ‘টাইফুন-৪’ শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল।

বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ ও আঞ্চলিক রাজনীতিকে ঘিরে আঙ্কারা ও তেল আবিবের সম্পর্ক যখন ক্রমেই তিক্ত হচ্ছে, তখন ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সামনে আনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও ইসরাইল- দুই দেশই ন্যাটো কাঠামোর সাথে যুক্ত থাকায় সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এখনো খুবই কম।

অর্থাৎ, ‘টাইফুন-৪’ হয়তো এখনই যুদ্ধের অস্ত্র নয়; বরং আঙ্কারার সামরিক সক্ষমতা, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং ইসরাইলের প্রতি কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের একটি শক্তিশালী প্রতীক।