খামেনির দিকনির্দেশনা ও সমর্থনেই ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি!

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি দাবি করেছেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দিকনির্দেশনা ও সমর্থনেই দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (ডানে) ইরানের পারমাণবিক অর্জনসমূহ পরিদর্শন করছেন
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (ডানে) ইরানের পারমাণবিক অর্জনসমূহ পরিদর্শন করছেন |সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক খাতের আজকের যে অভাবনীয় সাফল্য, তার মূলে রয়েছে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির অনন্য দিকনির্দেশনা ও অকুণ্ঠ সমর্থন।

মঙ্গলবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেশটির আণবিক শক্তি সংস্থার (এইআইওআই) প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, শত্রুদের একের পর এক বাধা, নিষেধাজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও আল্লাহর রহমতে ইরান তার পরমাণু প্রযুক্তির লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতি ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করেই ইরানে পারমাণবিক শক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতে শহীদ নেতা শুরু থেকেই অবিচলভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন উল্লেখ করে এসলামি বলেন, ‘ইরানের অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে শত্রুরা বহু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে তারা নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে আজ বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থান পুরোপুরি বদলে গেছে।’

তিন দশক আগেই দেশের জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ফিউশন প্রযুক্তির প্রসারের কথা বলা হয়েছিল। আজ ২০ বছর পর এসে উন্নত বিশ্ব যে প্রযুক্তি নিয়ে বিপুল গতিতে গবেষণা করছে, আমাদের শহীদ নেতা আরো ৩০ বছর আগেই সেই নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন।

এইআইওআই প্রধান জানান, ২০০৭ সালে আলি খামেনি প্রথম ২০ হাজার মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, যা এখনো ইরানের জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু রয়েছে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল, খুজেস্তান এবং উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশে আরও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে হরমুজগান প্রদেশে ৫ হাজার মেগাওয়াটের একটি প্রকল্পের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে ২০৩০ ও ২০৩১ সালের মধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

এই পরমাণু কর্মসূচির অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বুশেহর কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে তৈরি করতে গেলে ১৩০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেলের প্রয়োজন হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১২ বছরের পরিচালনায় কেন্দ্রটি তার প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি অর্থনৈতিক রিটার্ন দিয়েছে এবং এটি আরো ৫০ বছর সচল থাকবে। এর ফলে দূষণ কমার পাশাপাশি বিপুল অর্থনৈতিক সাশ্রয় হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরেও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইরানের পরমাণু প্রযুক্তির মানবিক অবদানের কথা উল্লেখ করে এসলামি বলেন, ‘বর্তমানে ইরানের তৈরি করা প্রায় ৮০ ধরনের রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস বা পরমাণু-ওষুধ দেশের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।’

উন্নত পরিবহন রুট সচল থাকলে ইরান নিয়মিত এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিদেশেও রফতানি করছে।

সাক্ষাৎকারের শেষে শহীদ নেতার জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ইরানি জাতি কতটা সচেতন ও কৃতজ্ঞ।

সূত্র : প্রেসটিভি