অধিকৃত পশ্চিম তীরে রোববার ভোরে এক তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি দখলদাররা। এক পৃথক হামলায় তারা একটি নির্মাণাধীন মসজিদে আগুন দেয় এবং এক ফিলিস্তিনির বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে রামাল্লার পূর্বে আরেক হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারি ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদালু (২৬ জুলাই) এই খবর দিয়েছে।
নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফাকে জানান, দখলদাররা শহরের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় এবং নির্মাণাধীন 'আল-রহমা' মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই আগুনে সেখানে থাকা কাঠের উপকরণ ও নির্মাণসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এর পাশেই নাবলুসের পূর্বের বেইত ফুরিক শহরে হামলা চালায় দখলদাররা। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্র ওয়াফাকে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আল-দুব্বাত এলাকায় এক বাসিন্দার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দমকল বাহিনি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই বাড়িটির আংশিক ক্ষতি হয়। এসব হামলাকারীরা দেয়ালে আরবদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বর্ণবাদী দেয়াললিখনও এঁকে দিয়ে গেছে।
অন্য এক ঘটনায়, রামাল্লার পূর্বের কফর মালিক শহরের কাছের আইন সামিয়া এলাকায় একটি পাথর ভাঙার কারখানায় আক্রমণ করে দখলদাররা। সেখানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি কর্মীকে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। এলাকা ছাড়ার আগে দখলদাররা কারখানার ভারী যন্ত্রপাতিতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি সংঘাত বাড়ার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনাগুলো ঘটল।
এর আগে উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে তেল শহরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় দখলদাররা। এতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণে দুই ইসরাইলিও নিহত হয়।
এই ঘটনার পর ইসরাইলি বাহিনী নাবলুস ও তার চারপাশের শহরগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় তারা এবং পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করে।
ফিলিস্তিনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও দখলদাররা অন্তত ১,১৮২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং বন্দি করা হয়েছে প্রায় ২৪,০০০ ফিলিস্তিনিকে।



