যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

১৪ দফা সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর কূটনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক। প্রায় ৮০০ শব্দের এই সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে আনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুদ্ধ বন্ধের জন্য স্থায়ী চুক্তিতে যেতে প্রথম ধাপ হিসেবে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন ট্রাম্প। পরে প্রাসাদ ছাড়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা সই হয়েছে। আমি ভার্সাইতে মাত্রই এটাতে সই করেছি।’

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানের আগে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে একই দিনে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে ইসলামাবাদ এমওইউতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

১৪ দফা সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর কূটনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক। প্রায় ৮০০ শব্দের এই সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে আনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা, সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতির পর সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে চুক্তির একটি খসড়া পাঠায় বলে জানা যায়।

গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ এমওইউ বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা, ডন।