ইরানের নির্মাণাধীন পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের পারমাণবিক স্থাপনায় শিগগিরই হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতিসঙ্ঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এখনো ওই স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে সেখানে ঠিক কী রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনডিটিভি বুধবার (২২ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হয়তো সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়েছে। তার ভাষায়, স্থাপনাটি এত গভীরে থাকতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমার জন্যও সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ট্রাম্পে দাবি, 'আমরা খুব শিগগিরই ওই এলাকায় হামলা চালাব। তারা এটা ঠেকাতে কিছুই করতে পারবে না।'
পিকঅ্যাক্স পাহাড়, যার আরেক নাম কুহ-ই কোলাং গাজ লা, তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাহাড়টির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের কঠোর নিরাপত্তায় থাকা এ স্থাপনার আয়তন প্রায় ২ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার। উপগ্রহচিত্রে একাধিক প্রবেশপথ দেখা যায়। বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের (আইএসআইএস) ধারণা, এসব পথ অন্তত ১০০ মিটার গভীরে থাকা একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পৌঁছায়। আইএসআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে এই স্থাপনার নির্মাণ শুরু হয়। ওই বছর নাতাঞ্জে নাশকতার ঘটনায় বিস্ফোরণের পর ইরান জানিয়েছিল, এতে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর কয়েক মাস পর তৎকালীন ইরানি পরমাণু সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি ঘোষণা দেন, নাতাঞ্জের কাছে পাহাড়ের ভেতরে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির জন্য আরো আধুনিক, বড় ও পূর্ণাঙ্গ একটি হল নির্মাণ শুরু হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের পারমাণবিক সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান আগেই জানিয়েছিল যে পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে ভূগর্ভে স্থানান্তর করা ছিল ইরানের ধারাবাহিক কৌশলেরই অংশ।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণকাজের ব্যাপ্তি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরান শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধই করবে না, উন্নত সেন্ট্রিফিউজও তৈরি করতে পারবে। বহু সেন্ট্রিফিউজ একসাথে চালু হলে পাহাড়ের সুরক্ষার আড়ালে দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।
ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী স্থাপনা ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র জিবিইউ-৫৭ 'বাঙ্কার বাস্টার' বোমা তৈরি করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে এ বোমা অন্তত ৬০ মিটার মাটি ভেদ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে দুটি বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনা করেছেন। তবে পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের স্থাপনাটি যে গভীরতায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাতে এমন হামলায় সেটি ধ্বংস করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



