এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

বুধবার (২২ জুলাই) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৯২ ডলারের ওপরে উঠেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে বুধবার (২২ জুলাই) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবারো ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারের ওপরে উঠেছে। পাশাপাশি জাপানি ইয়েনও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদ বাস্তবতার সাথে নাও মিলতে পারে এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে— এমন আশঙ্কায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক ওঠানামা করতে দেখা গেছে।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাকে আগের দিনের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় এশিয়ার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে। টোকিও শেয়ারবাজার প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। আর সেমিকন্ডাক্টর খাতনির্ভর সিউল শেয়ারবাজারে সূচক লাফিয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘এআই শেয়ারের উত্থানের শুরুর দিকে শুধু বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণার কারণেই কোম্পানিগুলো পুরস্কৃত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা চিপের চাহিদাকে সমর্থন করতে পারে। তবে, এতে মুক্ত নগদ প্রবাহ, অর্থায়নের প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কতটা ইতোমধ্যে শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।’

বুধবার পরে টেসলা এবং গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। আগামী সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের আরো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল এবং অ্যামাজনের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হবে। এসব আর্থিক প্রতিবেদন থেকে বাজার কিছু ইঙ্গিত পেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারের ওপরে উঠেছে। ১১ জুনের পর দিনের লেনদেনে এটি সর্বোচ্চ দাম।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান এখনো শেষ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা একাদশ রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা আরো দুর্বল করাই ছিল এ হামলার উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প বলেছেন, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা যদি সোমবার দেয়া সৌদি আরবের বন্দর অবরোধের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জে হ্যাটফিল্ড তেলের দাম নিয়ে বলেন, ‘আমাদের ধারণা, খবরের প্রবাহের ওপর নির্ভর করে তেলের দাম ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করবে।’

তিনি ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেন, ‘যদি সত্যিই লোহিত সাগর বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটি বড় ধরনের হুমকি হবে। এখনো আমরা তা দেখিনি। তবে, এমন হলে তেলের দাম ১০০ ডলারেরও ওপরে উঠে যেতে পারে।’

মুদ্রাবাজারে মঙ্গলবার দিনের শেষ দিকে ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ১৬৩-এর নিচে নেমে যাওয়ার পর বুধবারও ইয়েনের ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। ১৯৮৬ সালের পর এটি ছিল ইয়েনের সর্বনিম্ন অবস্থান। তেলের দাম বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ।

সূত্র: বাসস