ইসরাইলি বাহিনীর সাথে তীব্র সংঘর্ষের দাবি হিজবুল্লাহর

হিজবুল্লাহ শুক্রবার (১২ জুন) দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনাদের সাথে তাদের যোদ্ধাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এদিকে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লেবাননে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো
লেবাননে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো |সংগৃহীত

হিজবুল্লাহ শুক্রবার (১২ জুন) দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনাদের সাথে তাদের যোদ্ধাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এদিকে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি বাহিনী যখন মাজদাল জৌন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাদের যোদ্ধারা রকেট হামলা চালিয়েছে। এই এলাকা ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের পশ্চিম দিক থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হামলার ফলে ইসরাইলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে দাবি করে হিজবুল্লাহ।

পরবর্তীতে শুক্রবার ওই এলাকায় আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটি জানায়। এতে হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং রকেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর আরো হামলার কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ ।

এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে একাধিক বিমান হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ইসরাইলের সতর্কতার আওতার বাইরে থাকা এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, নাবাতিয়েহ শহরের দক্ষিণে আলি তাহের পাহাড়ের আশপাশে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে।

লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের বিশেষ প্রতিনিধির উদ্যোগে আয়োজিত একটি ত্রাণবাহী যানবাহন দক্ষিণাঞ্চলের খ্রিস্টান গ্রামগুলোর দিকে যাচ্ছিল। এই এলাকার বাসিন্দারা সঙ্ঘাত সত্ত্বেও অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী ত্রাণবাহী যানবাহনকে থামিয়ে দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে।

শুক্রবার এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন ত্রাণবহরের এক সদস্য।

গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। ইসরাইলি হামলার ফলে লেবাননে তিন হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি অংশ দখলে নিয়েছে ইসরাইল।

এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে আলোচনা হলেও সহিংসতা থামেনি। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরাইল আলোচনার পর একটি শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

হিজবুল্লাহ ওই শর্তযুক্ত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এতে ইসরাইলি হামলা বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের অবসান ঘটাতে যেকোনো সমঝোতা চুক্তিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সূত্র: বাসস