১৪টি পারমাণবিক চুল্লি প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা জাপানের

২০১১ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি গলে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর জাপান তাদের সব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর জাপান আবারো পারমাণবিক ব্যবহার বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটি তাদের পুরোনো হয়ে যাওয়া ১৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি নতুন চুল্লি দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চায়।

শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয় এ খসড়া পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টার ও সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) কারখানার মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের কারণে দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতেই সরকার এমন উদ্যোগ নিচ্ছে।

কিয়োদো নিউজ ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেসহ জাপানের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪০-এর দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ১৪টি পারমাণবিক চুল্লি প্রতিস্থাপনের আশা করছে দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই প্রথম জাপান সরকার পারমাণবিক চুল্লি প্রতিস্থাপনের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল।

শুক্রবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠকে এ পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আগামী গ্রীষ্মে এ খসড়া পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করবেন।

কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের বিদ্যুৎ খাতের হিসাব অনুযায়ী ২০৪০-এর দশকে দেশটিতে প্রায় ৫৫ লাখ কিলোওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ঘাটতি প্রায় পাঁচটি পারমাণবিক চুল্লি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি গলে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর জাপান তাদের সব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল।

তবে বর্তমানে কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে, ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ পরিবেশবান্ধব (কার্বন নিরপেক্ষ) দেশ হতে এবং এআই খাতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জাপান আবারো পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

সূত্র: বাসস