ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় প্রয়োজন হলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা।
দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েনের মান কমছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাটির ওপর আরো চাপ বেড়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাথে আলোচনার পর কাটায়ামা বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা রয়েছে।
জাপান সরকারও দুই দেশের এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে ইয়েনকে শক্তিশালী করেতে জাপান আবারো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর আগে গত মাসেই এই উদ্দেশ্যে দেশটি ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
সোমবার বেসেন্টের সাথে আলোচনার খবর প্রকাশের পর ইয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। এর আগে এটি প্রতি ডলারে ১৬১ দশমিক ৯৩ ইয়েনে নেমে যায়, যা ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে রেকর্ড হওয়া ১৬১ দশমিক ৯৬-এর কাছাকাছি।
টোকিওতে মঙ্গলবার বিকেলে লেনদেনের সময় জাপানি ইয়েনের দাম ডলার প্রতি প্রায় ১৬১ দশমিক ৬০-এ পৌঁছায়।
তুলনামূলকভাবে, ২০১১ সালে ইয়েন শক্তিশালী অবস্থায় প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রায় ৭৫ ইয়েন ছিল।
দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানিনির্ভর জাপানের জন্য পণ্য, বিশেষ করে ডলারে মূল্য নির্ধারিত তেলের খরচ বেড়ে যায়।
তবে এর একটি ইতিবাচক দিক হলো দুর্বল ইয়েন বিদেশী পর্যটকদের জন্য কেনাকাটা, আবাসন ও খাবার তুলনামূলকভাবে সস্তা করে দেয়ায় জাপানে পর্যটন খাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
সূত্র: বাসস



