যুক্তরাষ্ট্রে কমলো সুদ বাড়ার আশঙ্কা, এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার কর্মসংস্থান কমার তথ্য প্রকাশের পর দেশটিতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমেছে। এর প্রভাবে সোমবার (১০ আগস্ট) এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে |সংগৃহীত

জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার কর্মসংস্থান কমার তথ্য প্রকাশের পর দেশটিতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমেছে। এর প্রভাবে সোমবার (১০ আগস্ট) এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের দ্রুত সমাধানের আশা কমে যাওয়ায় তেলের দাম আবারো বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে বেশ অস্থিরতার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে আবারো বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে ছিল সবচেয়ে বেশি চাহিদা।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। একইসাথে মে ও জুন মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।

এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এটিকে আপাতত ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারে—এই সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৬৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য মূল্যস্ফীতির তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হবে।

কর্মসংস্থানের এই তথ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। কম সুদের হারে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের চাহিদায় নাসডাক সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এর প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের টোকিও শেয়ারবাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কিওক্সিয়া, টোকিও ইলেকট্রন ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতনের বদলে শক্তিশালী দর বৃদ্ধি দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দেশটির চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দামও বেড়েছে।

হংকং, তাইপে, সাংহাই, ওয়েলিংটন ও জাকার্তার শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ রদ্রিগো ক্যাট্রিল বলেন, ‘বাজারগুলো এই প্রতিবেদনকে স্বল্পমেয়াদে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছে। এর ফলে কার্যত মনে করা হচ্ছে, ফেডের হাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আরো সময় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রতিবেদন শ্রমবাজারের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা কমিয়েছে, কিন্তু এর মাধ্যমে ফেডের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে না।’

ক্যাট্রিল বলেন, ‘শুধু এই প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে জুলাই ও আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্যই নজর রাখার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

শুক্রবার কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর যে দরপতন হয়েছিল, সোমবার মার্কিন ডলার তার কিছুটা পুষিয়ে নেয়। জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও ডলারের দর বাড়তে থাকে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কর্তৃপক্ষ জাপানি মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে নজিরবিহীন যৌথ হস্তক্ষেপ শুরু করলে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছিল।

সূত্র: বাসস