ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিলো।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক এবং এর কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান আইআরজিসির হয়ে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালনা বা সহজতর করেছে।
এছাড়া ব্যাংকটি তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং’ সুবিধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে।
ওয়াশিংটনের সর্বশেষ এই পদক্ষেপের এক সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মিসরের একটি বড় ব্যাংককে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার দিকে এগিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিনভাবেই বুঝতে পারছে যে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নিয়ে আমরা কতটা কঠোর।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি আর কোনো ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে না। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কত দ্রুত বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং হত্যাযজ্ঞ চালানো ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা বন্ধ করে তার ওপর।’
এর আগে মঙ্গলবার বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহে একটি এবং পরের সপ্তাহে আরো একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরো চাপে ফেলার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।
উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে চলমান সংঘাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও করেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানের সাথে যুদ্ধ চলছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন।
সম্প্রতি বেসেন্ট ঘোষণা করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু করছে। এই অভিযানে অংশ না নেয়া দেশগুলোর জন্য কঠোর পরিণতিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র : বাসস



