বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ব্রিটিশ-ইসরাইলি একটি তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংগঠন আদালতে মামলা করেছে।
আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটিকে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মামলাটি করা হলো এমন এক সময়ে, যখন এর মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার বিষয়টিকে তিনি নাকচ করছেন না।
আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনি আর্জেন্টিনার জন্য ‘পবিত্র’ বিষয় হিসেবে বিবেচিত মালভিনাস ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন।
মিলে প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় স্বার্থের জন্য মালভিনাস ইস্যুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত আর কী বিষয় হতে পারে?’
‘সি লায়ন’ নামে পরিচিত এই তেলক্ষেত্রকে ঘিরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চাইছে ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার এক্সপ্লোরেশন ও ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম।
মামলাকারী যুদ্ধের সাবেক সৈনিক ও পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে বড় আকারের তেল উত্তোলন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মামলাকারীদের দাবি, জাতিসঙ্ঘের একটি প্রস্তাবের সাথে এই প্রকল্পের বিরোধ রয়েছে।
ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ চলমান থাকলে একতরফাভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়, যা বিরোধের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
যদিও প্রকল্পটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে মামলাকারীরা মনে করছেন, স্থানীয় আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনজীবী এনরিক ভিয়ালে বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, মামলায় আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ‘কাজ শুরু বা চালিয়ে যাওয়া এবং হাইড্রোকার্বন উত্তোলন ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু’ থেকে বিরত থাকে।
ফকল্যান্ড ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বিরোধ আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।
গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার তুলে ধরেন। এতে লেখা ছিল— ‘লাস মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’
এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দফতর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’
১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করলে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দ্বীপপুঞ্জ পুনর্দখলের জন্য একটি নৌবহর পাঠান।
এর জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন।
সোমবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব অবস্থানই পর্যালোচনা করি। এটি সেগুলোর মধ্যে একটি।’
ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
সূত্র : বাসস



