চলতি বছরের মধ্যেই মারকোসুরের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোট মারকোসুরের সাথে চলতি বছরের মধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় কানাডা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোট মারকোসুরের সাথে চলতি বছরের মধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় কানাডা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ব্রাজিল সফরকালে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এ কথা জানান। দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির চাপের কারণে কানাডা ও মারকোসুরের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কানাডা চলতি বছরের শেষ নাগাদ মারকোসুরের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান অনিতা আনন্দ।

সাও পাওলোতে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরার সাথে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের শেষ নাগাদ, সম্ভব হলে তার আগেই, আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা আরো জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী কয়েক দশকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য চুক্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চাই।’

মারকোসুরের পক্ষে বর্তমানে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল। এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে ও বলিভিয়া।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের ছয় দফা আলোচনা হয়েছে, যা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে এখনো কিছু বিষয় সমাধান করা বাকি রয়েছে।’

অনিতা আনন্দ স্বীকার করেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির ফলে কানাডার কৃষি খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা পর্যায়ে চলা আলোচনার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারকোসুর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়। তবে, ইউরোপের কৃষকদের তীব্র বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

ইউরোপীয় কৃষকদের আশঙ্কা, ব্রাজিল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কম দামের কৃষিপণ্য তাদের বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ তৈরি করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করা বাকি রয়েছে। তবে এর কিছু অংশ মে মাস থেকে অস্থায়ীভাবে কার্যকর হয়েছে।

সূত্র: বাসস