যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, হতাহত ১০

জাদাল্লাহ বলেন, বিমানটি কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়
অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায় |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু ও আরো পাঁচজন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা রোববার জানিয়েছেন।

মিয়ামি-ডেড কাউন্টির ফায়ার চিফ রে জাদাল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ট্রমা সেন্টারে নেয়া হয়েছে। আরো দুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জাদাল্লাহ বলেন, বিমানটি কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ভেতরে আটকে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটকে খুঁজে বের করে উদ্ধারের জন্যও বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নীল-সাদা রঙের বোয়িং ৭৬৭ বিমানটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামিতে পৌঁছায়। এরপর ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যায় দমকলের গাড়ি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাইম এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮ হিসেবে পরিচালিত বিমানটিতে দুর্ঘটনার পর আগুন ধরে যায়।

জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনার পর মোট ৬০টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ বিভাগের প্রায় ২০০ সদস্য উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে অংশ নেন।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।

স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিমানের ইঞ্জিনের অংশে লাগা আগুন নেভাতে ফোম ব্যবহার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গাড়ির নিচে একজন আটকা পড়েছিলেন। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়া বিশেষ বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনা (হ্যাজম্যাট) দল বিমানের ইঞ্জিন নিরাপদে বন্ধ করে এবং জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এনটিএসবি এক্সে জানায়, বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। দুর্ঘটনার তদন্তে সংস্থাটি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল পাঠিয়েছে।

অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানায়, অবতরণের সময় বিমানটি ‘একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে’।

তবে কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক বিবৃতিতে কিছু জানায়নি।

অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আমরা এখনো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। ঠিক কী ঘটেছে তা জানতে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’

জননিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই বলে জানান মিয়ামি শেরিফ রোজি কোরদেরো-স্টুটজ।

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা জেনে নিতে বলা হয়।

রোববার কয়েক ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়। এতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেক দেরি ও ফ্লাইট বাতিলের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

পরে ‘মিয়ামি হেরাল্ড’ জানায়, রোববারই বিমানবন্দরের চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়েছে।

মিয়ামির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জরুরি সেবাকর্মীদের দ্রুত সাড়া দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমাদের ফায়ার রেসকিউ বা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এ জন্য আমরা তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

সূত্র : বাসস