ইরানে ৬ ঘণ্টা ধরে হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ইরানের একাধিক স্থানে ছয় ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালিয়েছে। এদিকে তেহরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ইরানের একাধিক স্থানে ছয় ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে ‘নির্দোষ নৌযানচালকদের হুমকির মুখে ফেলার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা’।

এদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনও রয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চাপ বাড়ার মধ্যেই নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং গ্রেটার টুনব দ্বীপও রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।

ইরানজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো হামলার খবর দেয়।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী আরো বলেছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পৃথকভাবে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কুরাসাওর পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে সেটি অচল করে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি অবরুদ্ধ একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তারা ‘ভদ্র আচরণ করাই ভালো’, অন্যথায় আলোচনায় ফিরে না এলে আরো সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি