৩০টিরও বেশি দেশে জৈব গবেষণাগার পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে এবং এ তথ্য মার্কিন জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে এবং এ কর্মসূচির তথ্য দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড বলেন, তার কার্যালয় এমন একটি বৈশ্বিক জৈব গবেষণাগার নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে, যেখানে বিপজ্জনক ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

তার অভিযোগ, এসব গবেষণাগারের অবস্থান, ইতিহাস ও অর্থায়ন সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এসব তৎপরতার সমালোচকদের অনেক সময় বিদেশী অ্যাজেন্ট বা বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করাও হয়েছে।

গ্যাবার্ডের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব গবেষণাগারের কিছু ইউক্রেনে রয়েছে। রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে সতর্ক করেছিল, ইউক্রেনের কমপক্ষে একটি স্থাপনায় বিপজ্জনক রোগজীবাণু রয়েছে, যা হামলা বা দখলের শিকার হতে পারে।

গ্যাবার্ড আরো দাবি করেন, কয়েকটি গবেষণাগারে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ ধরনের গবেষণা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা বা ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য বাড়ানো হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ ধরনের গবেষণায় ফেডারেল অর্থ দেয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে গ্যাবার্ড ৩০টির বেশি দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কথা বললেও, তার কার্যালয় যে নথি প্রকাশ করেছে তাতে শুধু ইউক্রেনের চারটি গবেষণাগারের নাম রয়েছে। অন্যগুলোর অবস্থান বা কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জৈব গবেষণায় অর্থায়ন করে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ নজরদারি এবং জৈব অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৫ সালের জৈব অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদেও স্বাক্ষর করেছে।

গ্যাবার্ডের এই বক্তব্য রাশিয়া ও চীনের পুরোনো অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। ২০২১ সালে দুই দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক জৈব কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তারা বলেছিল, এসব কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। একইসাথে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশে পরিচালিত জৈব কার্যক্রম সম্পর্কে আরো স্বচ্ছতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল।

চীন ২০২১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে ফোর্ট ডেট্রিক গবেষণাকেন্দ্রের তদন্তেরও আহ্বান জানায়।

সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে জৈব কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক যাচাই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে কোভিড-১৯-এর উৎস নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

২০২৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দাবি করেছিল, ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন দেয়ার উপযোগী হিসেবে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জৈব অস্ত্র-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে রাশিয়া।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন