ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র রোববার (২৬ জুলাই) পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থেকেছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপরিবহন ও তেলশিল্প। জাতিসঙ্ঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত মাইক ওয়াল্টজ একে প্রেসিডেন্টকে আলোচনার জন্য ‘কিছুটা সুযোগ’ দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ থাকলেও ট্রাম্প আলোচনার জন্য ‘কিছুটা সময়’ দিতে চান।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত করেছে।
যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি পেয়ে সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে।
লেনদেন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে আসে। একপর্যায়ে তা ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়।
শুক্রবারের আগে টানা ১৩ রাত ইরানে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। তবে, শুক্রবার ও শনিবার রাতে আর কোনো বোমা হামলা হয়নি।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘দুই রাত আগে পর্যন্ত এসব হামলা চলেছে। কিন্তু গত দুই রাত ধরে আমেরিকানরা তাদের হামলা বন্ধ রেখেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কৌশল যেহেতু প্রতিশোধমূলক ছিল, তাই আমরাও আমাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান স্থগিত করেছি।’
কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাতের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। পরে এ সংঘাত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ছাড়িয়ে মার্কিন ঘাঁটি, আঞ্চলিক নৌপরিবহন এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলায় বিস্তৃত হয়।
রোববার ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া খবরে বলা হয়, একটি তেলের ট্যাঙ্কার সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিরতি আবারো আলোচনায় ফেরার আশা জাগিয়েছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুদে চাপ তৈরি হওয়াও হামলা কমার একটি কারণ হতে পারে।
এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ এ ধারণা উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই। আমি সবদিক থেকেই নিশ্চিত হয়েছি, এ অভিযান কার্যকরভাবে চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর যা প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে তেহরানের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, এর লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি।
ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে তিনি পুরোপুরি সমর্থন করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘যদি তিনি তীব্র সামরিক সংঘাতে না ফিরে এটি করতে পারেন, তাহলে ভালো। কেন নয়? কিন্তু যেভাবেই হোক, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতি টানতে হবে। চুক্তির মাধ্যমে হোক বা চুক্তি ছাড়াই হোক, এর সমাপ্তি ঘটতেই হবে।’
দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আরো জোরদারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস আরো জানিয়েছে, ট্রাম্পের সামনে মধ্যপ্রাচ্যে আরো বিস্তৃত যুদ্ধ, ঝুঁকিতে থাকা উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্কের অবনতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কার আশঙ্কাও রয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান আবার শুরু করবেন কি-না, সে বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আমরা তাদের সাথে কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছে তারা ক্রমেই আরো আন্তরিক হচ্ছে।’
এদিকে ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা রোববার দাবি করেছে, তারা ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর একদিন আগে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করে।
হাউছিরা জানিয়েছে, শুক্রবার রিয়াদ হাউছি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালানোর পর তারা জিজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: বাসস



