যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া এখন আরো উষ্ণ

‘পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্যপ্রমাণ দেখায়, সবচেয়ে গরম ও সবচেয়ে শীতল আবহাওয়ার যে পরিস্থিতিকে আমরা আমাদের ‘স্বাভাবিক’ জলবায়ু বলে মনে করি, তা বিংশ শতাব্দীর বেশিভাগ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাজ্যের জলবায়ু এখন মৌলিকভাবে বদলে গেছে
যুক্তরাজ্যের জলবায়ু এখন মৌলিকভাবে বদলে গেছে |সংগৃহীত

গত শতাব্দীর প্রচলিত ব্রিটিশ আবহাওয়ার তুলনায় যুক্তরাজ্যের জলবায়ু এখন মৌলিকভাবে বদলে গেছে।

দেশটির তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাও ঘন ঘন ঘটছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির আবহাওয়া দফতর এ তথ্য জানায়।

মেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্যপ্রমাণ দেখায়, সবচেয়ে গরম ও সবচেয়ে শীতল আবহাওয়ার যে পরিস্থিতিকে আমরা আমাদের ‘স্বাভাবিক’ জলবায়ু বলে মনে করি, তা বিংশ শতাব্দীর বেশিভাগ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীন দু’টি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এ সময় ইংল্যান্ডে মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ে যথাক্রমে ৩৫ দশমিক এক এবং ৩৭ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯১০ সালের পর বছরটি ছিল সবচেয়ে বেশি রৌদ্রোজ্জ্বলও।

মেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসন্ত ও গ্রীষ্ম মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

এ সময় মোট সূর্যালোকের পরিমাণ ছিল ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের ১২৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে একে রেকর্ড করা শুরুর পর থেকে ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ ও সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলোও এ পরিবর্তন থেকে রেহাই পায়নি। ২০২৫ সালে দেশটির উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ২৯৭ দিন সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। ১৯৮২ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের ১৭৮ দিনের আগের রেকর্ডও অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।

বার্ষিক রেকর্ডের বাইরে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৯৮০’র দশক থেকে প্রতি দশকে যুক্তরাজ্যের জলবায়ুর গড় তাপমাত্রা প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

১৮৮৪ সালের পর রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ চার বছরই রয়েছে।

এর পাশাপাশি চরম আবহাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালের তুলনায় গ্রেটার লন্ডনে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন এবং ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার রাতের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

খাদ্য ও পোশাক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার সম্প্রতি ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম সরঞ্জামে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ইউরোস্টারও তাদের ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী উচ্চগতির ট্রেনগুলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করবে। বাসস