আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার আবারো ব্যাপক ভোট জালিয়াতি এবং চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এ বক্তব্যকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের ধারণা, তিনি নির্বাচনটির ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি আইনপ্রণেতাদের ভোটগ্রহণে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানান। তবে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও এসব প্রস্তাবের প্রতি তেমন সমর্থন নেই।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে নিজের পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আর কখনো কারচুপির নির্বাচন দেখতে পারি না।’ তিনি বলেন, তিনি এমন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা প্রত্যাহার করছেন, যাতে দেখা যায় চীন বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘২০২০ সালের নির্বাচনী চক্র থেকে কয়েক বছর ধরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরণের তথ্যভঙ্গের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।’
বেইজিং ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছে। একইসাথে ওয়াশিংটনকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে আরো ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার। এগুলো অনেক আগেই ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।’
ট্রাম্প আরো দাবি করেন, চারটি অঙ্গরাজ্যে আড়াই লক্ষাধিক অ-মার্কিন নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
এরপর তিনি তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি ও এনবিসির সমালোচনা করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি ইঙ্গিত দেন, তারা নির্বাচন কারচুপির চেষ্টার সাথে জড়িত।
তিনি বলেন, ‘তারা এবং গণমাধ্যমের অন্যরা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতির কারণে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।’
২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি সংক্রান্ত ট্রাম্পের এই দাবি কখনো প্রমাণিত হয়নি। ৬০টির বেশি মামলার কোনোটিতেই নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্পের নিজস্ব বিচার বিভাগও এ ধরণের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি।
ট্রাম্প তার ভাষণে ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতি নিয়ে খুব কমই কথা বলেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কব বলেন, এই ভাষণের উদ্দেশ্য সম্ভবত নির্বাচনকে ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করা। বাসস



