প্রতি বছর এই সময়ে অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহর সিডনি সব থেকে উত্তপ্ত থাকে। এই তাপদাহ দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে সিডনি কর্তৃপক্ষ সব ধরণের ঝোপঝাড়ে আগুন জ্বালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী আবহাওয়া পরিস্থিতি 'এল নিনো'র প্রভাবে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত এটি। এটি বসন্ত মৌসুমে সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াজুড়ে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি করছে।
শনিবার দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী এবং প্রায় ৫৬ লাখ মানুষের বসবাসকারী এই শহরে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। যা স্বাভাবিক গড় তাআত্রার চেয়ে প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১:৩০ মিনিটে সিডনি বিমানবন্দরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা সেপ্টেম্বর মাসের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রিরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের সতর্ক বার্তা অনুযায়ী, "সকালের দিকে উত্তর-পশ্চিম থেকে বয়ে আসা শুষ্ক ও দমকা বাতাস এবং অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়ার কারণে গ্রেটার সিডনি অঞ্চলে আজ দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।"
রাজ্যের অগ্নিনির্বাপক কর্তৃপক্ষ সিডনিতে সর্বাত্মক আগুন জ্বালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এখানকার ফায়ার রিস্ক বা দাবানলের ঝুঁকিকে "চরম" (যা বিপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রা) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়া এমনিতেই দাবানলপ্রবণ যেখানে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বহবাস করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে তীব্র তাপদাহ ও দাবানল সৃষ্টি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশের জন্য। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী বিশাল দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল এর আগে গত বছর জানুয়ারি মাসে। সেই দাবানল বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছিল, হাজার হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং বিশাল এলাকার বনাঞ্চল পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল।
অনুবাদ: মোহাম্মাদ ফাহাদ।
নয়া দিগন্তের ইন্টারনশিপ শিক্ষার্থী।



