ইরানের সাথে সম্পর্কের অভিযোগে তুর্কি ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে একটি বড় মিসরীয় ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেয়ার পর সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তিন দেশের পতাকা
তিন দেশের পতাকা |প্রতীকী ছবি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গাড কোরের (আইআরজিসি) সাথে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।

সর্বশেষ এ পদক্ষেপের আওতায় পড়েছে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসির জন্য ‘কয়েক কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তারা তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ করে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সুবিধাও দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে একটি বড় মিসরীয় ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেয়ার পর সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন পথেই বুঝতে পারছে যে, আমরা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নিয়ে কতটা গুরুতর।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আর কোনো ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত এটি নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কত দ্রুত বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করে তার ওপর।’

বেসেন্ট মঙ্গলবার বলেন, চলতি সপ্তাহে একটি এবং আগামী সপ্তাহে আরো একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি-২০-এর অর্থবিষয়ক নেতাদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি এসব কথা বলেন। সঙ্ঘাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অংশীদার দেশগুলোর সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান যুদ্ধে রয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আকস্মিক বোমা হামলা শুরু করে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন।

সম্প্রতি বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’বা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট ঘোষণা করছে বলে অঙ্গীকার করেন। একইসাথে যে দেশগুলো এই অভিযানে যোগ দেবে না, তাদের কঠোর পরিণতিরও সতর্কবার্তা দেন তিনি।