১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
উন্নয়নযাত্রার ৪ দশক

আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক : এমডি ও সিইও

-

১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ কার্যক্রম শুরু করা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার সফল অগ্রযাত্রার পটভূমিতে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার সাফল্য ও অগ্রগতির ৪০ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একের পর এক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংক আজ দেশের ব্যাংকিং খাতে শীর্ষস্থানের অধিকারী। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি, রেমিট্যান্স আহরণ, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার ধারণ করে ইসলামী ব্যাংক জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ইসলামী ব্যাংক সেরা করদাতা ব্যাংক, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংক সর্বোপরি গণমানুষের ব্যাংকরূপে স্বীকৃত। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং আমানতের ১০ ভাগ ও বিনিয়োগের ৯ ভাগ ধারণ করছে। এ ব্যাংকের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন দেশে ১০টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনা করছে। সার্বিকভাবে দেশের মোট ব্যাংকিংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে যার হিস্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। এই অগ্রযাত্রার অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো নয়া দিগন্তের কাছে তুলে ধরেছেন ইসলামী ব্যাংকের সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নয়া দিগন্তের প্রধান প্রতিবেদক ও বিশেষ সংবাদদাতা আশরাফুল ইসলাম।
প্রশ্ন : আমানতকারীদের ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : মানুষের ধর্মীয় নিয়মনীতি পরিপালনকে আর্থিক সক্ষমতার আওতায় আনতে ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে মুদারাবা হজ সঞ্চয় প্রকল্প। অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় রয়েছে ক্যাশ ওয়াক্ফ হিসাব। নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষদের কিস্তি জমার ভিত্তিতে আছে মোহর জমা হিসাব। এই প্রত্যেকটি হিসাবের জন্য অন্যান্য হিসাবের তুলনায় মুনাফার বেশি ওয়েটেজ দেয়া হয়। এসব কারণে ইসলামী ব্যাংকে আমানত রাখতে গ্রাহকরা উৎসাহিত হন। এ কারণেই দেশের মোট ব্যাংকিং আমানতের ১০ ভাগ ধারণ করছে ইসলামী ব্যাংক। বতর্মানে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সর্বোচ্চ।
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগের অবস্থা কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : দেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে শুরু থেকেই ইসলামী ব্যাংক শিল্পায়নে নানা অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করে আসছে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ এক লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংকিং ঋণ বা বিনিয়োগের ৯ শতাংশ এবং ব্যাংকিং সেক্টরের সর্বোচ্চ।
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা কত?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি ৬০ লাখ, যা দেশের ব্যাংকিং গ্রাহকের ১৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা এক কোটি অতিক্রম করে। ইসলামী ব্যাংক সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ব্যাংকিং সেবাসহ ছয় হাজারের বেশি ইউনিট নিয়ে সারা দেশে বিস্তৃত। এই ব্যাংক শ্রেণিপেশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিশে^ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মোট গ্রাহকের এক-চতুর্থাংশই এককভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের।
প্রশ্ন : বৈদেশিক বাণিজ্যে অবস্থান কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। আমদানি বিকল্প ও রফতানি প্রণোদনা খাতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য করেছে যথাক্রমে ৬৪ হাজার ও ৩৪ হাজার কোটি টাকা। দেশের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার যথাক্রমে ১১.৪% ও ৮%। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্Ÿোচ্চ। পাঁচ শতাধিক বিদেশী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ইসলামী ব্যাংকের করেসপন্ডেন্ট সম্পর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন : রেমিট্যান্স আহরণের দিক থেকে অবস্থান কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে ইসলামী ব্যাংক বহু বছর প্রধান ভূমিকা পালন করছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এ ব্যাংক। ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫১ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী রেমিট্যান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ইসলামী ব্যাংক প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহকের কাছে গড়ে ১৩৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রশ্ন : অর্থনৈতিক বিনির্মাণে ইসলামী ব্যাংক
কিভাবে অবদান রাখছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : বর্তমানে দেশের ছয় হাজারের বেশি শিল্পকারখানা ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এক হাজারের বেশি গার্মেন্ট শিল্প পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংকের অর্থায়নে। গার্মেন্ট ও টেক্সটাইল, স্পিনিং মিল, স্টিল রি-রোলিং, লোহা ও ইস্পাত শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানাবিধ ভারী শিল্প কারখানায় ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি যেমন বসুন্ধরা গ্রুপ, আকিজ করপোরেশন, মোনেম গ্রুপ, নোমান টেক্সটাইল, বিএসআরএম, আরএসআরএম, চায়না বাংলা সিরামিক্স, পেট্রোমেক্স রিফাইনারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শিল্প খাতে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত শিল্পকারখানার মাধ্যমে দেশের ২৫ লাখের বেশি বেকার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্বোচ্চ এসএমই বিনিয়োগকারী ব্যাংক। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের এসএমই গ্রাহকসংখ্যা দুই লাখ। ২০২১ সালে ব্যাংকের এসএমই বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা দেশের মোট এসএমই বিনিয়োগের ১১ শতাংশ। ২০২১ সালে কৃষি খাতে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার গ্রাহককে বিনিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে কর্তৃক প্রদত্ত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে দুই হাজারের বেশি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে ২৮টি পাটকল পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে সার আমদানিতে ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন সর্বোচ্চ। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের প্রথম অটো রাইস মিল ও ব্রান অয়েল মিলসহ স্থাপিত হয়েছে প্রায় এক হাজার অটো রাইস মিল। ধানের তুষ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনে প্রথম অর্থায়ন করেছে ইসলামী ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগে ২০ লাখ মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। দেশের আবাসন বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ১০%-এর বেশি। বাংলাদেশের পরিবহন খাতের মোট বিনিয়োগের প্রায় ২১% মার্কেট শেয়ার ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত রেজিস্টার্ড যানবাহনের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় এক লক্ষ। নৌপরিবহনে রয়েছে ৪২১টি। এ ছাড়া উড়োজাহাজ রয়েছে ৫টি।
প্রশ্ন : দারিদ্র্যবিমোচন ও পল্লী উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক কিভাবে অবদান রাখছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচনে ১৯৯৫ সালে ইসলামী ব্যাংক চালু করে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) যা বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামিক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি। এতে সমন্বিত উন্নয়ন অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে জামানতমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, চক্ষুশিবির, খতনা কার্যক্রম, কন্যাবিবাহের জন্য অনুদান, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্প বর্তমানে দেশের ২৬ হাজার গ্রামে বিস্তৃত, যা ২০১২ সালে নগর-দরিদ্রদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১৩ লক্ষাধিক প্রান্তিক পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী হয়েছে। ৯৬ শতাংশ নারী সদস্যের মাধ্যমে কাজ করা এ প্রকল্প দেশে নারীর ক্ষমতায়নেও পালন করছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।
প্রশ্ন : প্রযুক্তির যুগে ইসলামী ব্যাংক কিভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত। ব্যাংকের কোর ই-আইবিএস সফটওয়্যার এই ব্যাংকের তরুণ প্রকৌশলীদের দ্বারা নির্মিত, যা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সফটওয়্যার হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এই সফটওয়্যারের কারণে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপে লেনদেন, নিজে হিসাব খোলাসহ প্রায় সব সাধারণ ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। সেলফিন অ্যাপে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভিসা ডিরেক্ট সার্ভিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যায়। ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যেকোনো দেশে থেকে সরাসরি পেমেন্ট নিতে পারেন সেলফিনে। ইনস্ট্যান্ট ভিসা কার্ড, ব্রাঞ্চ ছাড়াই ই-কেওয়াইসি ভিত্তিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ইএফটি এবং এনপিএসবির মাধ্যমে অন্য ব্যাংকে/কার্ডে সরাসরি ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাড মানি, রিকোয়েস্ট মানি, ই-কমার্স/মার্চেন্ট পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, টিকেটিংসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা সেলফিনের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও এই অ্যাপে ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো কার্ড, অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ‘এমক্যাশ’ যুক্ত করা, যেকোনো ভিসা অথবা মাস্টার কার্ড থেকে ফান্ড ট্রান্সফার, কিউআর কোডের মাধ্যমে কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ, ব্যালেন্স ইনকোয়ারি ও তাৎক্ষণিক কার্ড/অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সুবিধা রয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের টিউশন ফি প্রদান ও গ্রহণ, কার্ড ছাড়াই এটিএম থেকে ক্যাশ আউট, এমক্যাশ ট্রান্সফার, ক্যাশ বাই কোডের মাধ্যমে হিসাববিহীন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানো যায় ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপে। সম্প্রতি বিকাশের সাথে যৌথভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক। ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজির সব দ্বার উন্মুক্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকদের অব্যাহত উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক সেবা প্রদান ও তাদেরকে এই সেবার সাথে যুক্ত করাই এখন ইসলামী ব্যাংকের অগ্রাধিকার।
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত করছে ?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংকিং মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্যোগ। এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৭২ লাখ সুবিধাভোগীকে সাস্থ্যসেবা দিতে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের কল্যাণে ১৯৮৪ সালে ‘সাদাকাহ ফান্ড’ গঠিত হয়। পরে ব্যাপকভিত্তিক কাজের জন্য ‘ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ব্যাংক মোট ১৫৯৪ শয্যাবিশিষ্ট ১০টি নিজস্ব হাসপাতাল ও ৯টি কমিউনিটি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ রোগী এসব হাসপাতাল থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে ইসলামী ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, একটি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, একটি ডিপ্লোমা নার্সিং ইনস্টিটিউট, ছয়টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৭টি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।
প্রশ্ন : কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কোনো পুরস্কার পেয়েছেন কি না?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’-এর মূল্যায়নে ইসলামী ব্যাংক ২০১২ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংকরূপে অবস্থান ধরে রেখেছে। এই অবস্থান ক্রমাগত উন্নীত হচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ বেস্ট প্রেজেন্টেড অ্যানুয়াল রিপোর্ট ও করপোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে একাধিকবার সেরা ব্যাংকের পুরস্কার দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে কয়েকবার ‘শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংকে’র সম্মাননা দিয়েছে। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী ইসলামী ব্যাংককে টানা সাত বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শীর্ষ পারফরমার হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। দ্য জেনারেল কাউন্সিল ফর ইসলামিক ব্যাংক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স (সিবাফি) কর্তৃক ওয়ার্ল্ডস বেস্ট ইসলামিক ব্যাংক সিবাফি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। এশিয়ান ব্যাংকার ইসলামী ব্যাংককে বেস্ট রিটেইল ব্যাংক ইন বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক টেকসই ব্যাংকিংয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এ ব্যাংক।
প্রশ্ন : গ্রাহক ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংকের সফলতার পেছনে রয়েছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অবিচল আস্থা, ব্যাংকের সর্বস্তরের জনশক্তির অক্লান্ত পরিশ্রম, সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা ও পরামর্শ, নীতিনির্ধারকদের দিকনির্দেশনা, সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত ব্যাংকের এ ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরো আধুনিক, গতিশীল ও বিস্তৃত করতে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


আরো সংবাদ


premium cement