২৫ নভেম্বর ২০২০

পুরোপুরি নির্মূল হবে না করোনা

ইউরোপের মন্দা পূর্বানুমানের চেয়ে ভয়াবহ; ৮০ ভাগ করোনারোগীই উপসর্গবিহীন; ভারতে প্রতিদিন তিন লাখ আক্রান্তের শঙ্কা; আক্রান্তে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের
-

ভ্যাকসিনে পুরোপুরি নির্মূল হবে না করোনাভাইরাস। সংক্রমণের এই পর্যায়ে সাময়িক সুরক্ষা দিতে পারবে ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন কেবলমাত্র সাময়িক স্বস্তি দিলেও অনন্তকাল ধরে এর প্রভাব টিকবে না। একটা মানুষকে সারা জীবন করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারবে না ভ্যাকসিন।
মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউজের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মিসলস বা হামের টিকা যেমন মানুষকে সারা জীবন সুরক্ষা দেয়, করোনার ভ্যাকসিনে তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ফাউচি মনে করছেন, মৃত্যুহার নিম্নগামী হলেও তা স্বস্তি পাওয়ার মতো কিছু নয়। এই ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব আরো বিস্তৃত পরিসরে ব্যাপ্ত। মঙ্গলবার আলাবামার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডো জোন্সের সাথে এক লাইভ স্ট্রিম প্রেস কনফারেন্সে তিনি মার্কিন জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘মিথ্যা আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। কম মৃত্যুহার নিয়ে স্বস্তিবোধ করার বিষয়টি ফলস ন্যারেটিভে আশ্বস্ত হওয়ার মতো। সত্যিকারার্থে এ ভাইরাসের আরো অনেক ভয়াবহ ও বাজে প্রভাব রয়েছে।’
ইম্পিরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা এর মধ্যেই বলেছেন, প্রথম ভ্যাকসিনেই পুরোপুরি নির্মূল হবে না করোনা। শুধুমাত্র সংক্রমণের কারণে জটিল রোগের প্রকোপ কমবে। খবর এএফপি, সিএনবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স, আনন্দবাজার, বিবিসি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, সিএনএন, ওয়ার্ল্ডোমিটারস, এনডিটিভি, মেডিক্যাল লাইফ সায়েন্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের।
ভারতে প্রতিদিন তিন লাখ আক্রান্তের শঙ্কা : টিকা না এলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন করোনায়। এখনকার পরিস্থিতি না বদলালে বিশ্বে করোনা আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে যাবে ভারত। পেছনে ফেলে দেবে আমেরিকা, ব্রাজিল, রাশিয়াকে। পরিস্থিতিটা সবচেয়ে খারাপ জায়গায় পৌঁছবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে। করোনা নিয়ে ভারতের জন্য এই উদ্বেগের কথাই শোনাল ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। ৮৪টি দেশে বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে ভারতের পক্ষে রীতিমতো উদ্বেগজনক এই পূর্বাভাস দিয়েছে এমআইটির স্লোয়ান স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট। গবেষকদের পূর্বাভাস, কোনো কার্যকরী টিকা না বের হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হবেন দৈনিক ২ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। আর আগামী মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে সমগ্র বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছবে ২০ থেকে ৬০ কোটির মধ্যে।
করোনায় আক্রান্তে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের : মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আরো ৬০ হাজার ২০৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যা এক দিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১১৪ জনের। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ জনের। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৬৩ জন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে করোনাভাইরাসের নতুন বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশটি এ ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার রোধে লড়াই করছে।
পূর্বানুমানের চেয়ে ভয়াবহ হবে ইউরোপের মন্দা : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক ক্ষতি পূর্বানুমানের চেয়ে আরো বেশি হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি)। তবে সামাজিক দূরত্ববিধি অব্যাহত রেখে নেয়া আর্থিক নীতি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন তারা। ইসি বলছে, মহামারীর কারণে চলতি বছরে ইউরোজোনের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে এবং ২০২১ সালে বাড়বে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগে, গত মে মাসে এ বছর ৭ দশমিক ৭ শতাংশ সঙ্কোচন এবং আগামী বছর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল তারা। মহামারীর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন। এদের প্রতিটি দেশের অর্থনীতি চলতি বছর ১০ শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে। করোনায় কিছুটা কম ভুক্তভোগী জার্মানির অর্থনীতি সঙ্কুচিত হবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। মে মাসের পূর্বাভাসে এর পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
৮০ ভাগ করোনারোগীই উপসর্গবিহীন : করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় মাত্র ২২ শতাংশ মানুষের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে; যাদের পরীক্ষার দিন পর্যন্ত করোনার উপসর্গ ছিল। এ ছাড়া অন্য প্রায় ৮০ শতাংশ কোভিড-১৯ রোগীই উপসর্গবিহীন; তারপরও তাদের পরীক্ষার ফল এসেছে পজিটিভ। যারা নীরবে করোনার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছেন কিন্তু জানেন না। মঙ্গলবার ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যেসব মানুষ স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সাধারণত বাড়ির বাইরে কাজ করেন তাদের করোনা পজিটিভ হওয়ার শঙ্কা বেশি। জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শ্বেতাঙ্গদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়া যারা বড় পরিবারে বসবাস করেন তাদের করোনা পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা ছোট পরিবারের সদস্যদের চেয়ে বেশি।
নতুন বিপদের কথা জানালেন বিজ্ঞানীরা : করোনাভাইরাস নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের গবেষকরা। এবার এই ভাইরাস নিয়ে আরেকটি বিপদের কথা জানালেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, করোনা আক্রান্তের ফলে মানুষের মস্তিষ্কে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। যার কারণে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি স্ট্রোক, স্নায়ুর ক্ষতিসহ মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। যদিও কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসনালী ও হৃদপিণ্ডে সংক্রমণ করে এবং সেখানেই মানুষকে কাবু করে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এ ভাইরাস মানুষের ব্রেনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের চালানো গবেষণাটি ‘ব্রেন’ নামক একটি জার্নালে প্রকাশ করা হয়।
অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী নিয়ে খুলছে হার্ভার্ড ও প্রিন্সটন : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের ক্যাম্পাসের দ্বার উন্মুক্ত করার কথা ভাবছে হার্ভার্ড এবং প্রিন্সটনের মতো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে প্রতিষ্ঠানের দ্বার খুললেও একসাথে সব শিক্ষার্থীর আর ক্লাসরুমে ফেরা হবে না। হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্নাতক স্তরে একমাত্র প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মোট ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার অনুমতি দেয়া হবে। প্রায় একই ঘোষণা দিয়েছে প্রিন্সটনও। একই সাথে ১০ শতাংশ টিউশন-ফি মওকুফ করার ঘোষণাও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরা উচিত : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানেই বিরাট ঝুঁকি। তবে এমন অনেক করোনারোগী আছেন যাদের কোনো উপসর্গ নেই। তাই কোনো ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া ঘরের বাইরে চলাফেরাও এখন ঝুঁকির কারণ। এই অবস্থায় নিজের সুরক্ষার জন্য বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক পরতে পরামর্শ দিচ্ছে ব্রিটেনের জাতীয় বিজ্ঞানবিষয়ক অ্যাকাডেমি রয়্যাল সোসাইটি। তারা বলছে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে হলে ঘরের বাইরে সবারই উচিত ফেস মাস্ক পরা। এতে যিনি মাস্ক পরছেন তিনিও যেমন নিরাপদ থাকবেন তেমনি তার কাছাকাছি যারা আছেন তারাও সুরক্ষা পাবেন। মাস্ক পরতে না চাওয়াকে ‘মদ খেয়ে গাড়ি চালানো’র মতোই খারাপ চোখে দেখা উচিত।
করোনা ঠেকাতে ঘরে বানানো মাস্ক কার্যকর : ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন আলগা ভাঁজ করা রুমাল দিয়ে বানানো ফেস মাস্ক এবং ব্যান্ডানা স্টাইলের যে মুখ ঢাকা মাস্ক রয়েছে, সেগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ক্ষুদ্রতম কণাগুলো আটকাচ্ছে। এমনকি বাড়িতে বানানো সুতির একাধিক লেয়ার বিশিষ্ট মাস্ক এবং দোকানের তিনকোনাবিশিষ্ট যে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও হাঁচি কিংবা কাশির সময় মিউকাস জাতীয় পদার্থের বাইরে বেরোনো রুখে দিচ্ছে। কিন্তু এই সবকটি মাস্কে যদি কোনো রকম ছিদ্র থাকে বা ফাঁকা থেকে যায়, তাহলেই বিপদের আশঙ্কা থাকছে। মুখ না ঢেকে হাঁচি কিংবা কাশি, অনেক সময় কথা বললেও কমপক্ষে ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই করোনা জীবাণু। এই পরীক্ষাটির ফলাফল ‘ফিজিক্স অব ফ্লুয়িড’ জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে।
সার্বিয়ায় লকডাউন-বিরোধী তীব্র বিক্ষোভ : সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে দেশটির পার্লামেন্ট চত্বরে লকডাউন-বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এ বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। মূলত বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে অংশ নেন। তবে রাদোমির লেজোভিক নামের একজন বিরোধীদলীয় নেতা সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বেলগ্রেডে কর্তৃপক্ষের লকডাউনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিকের পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান তোলেন তারা।
বাতাসে ছড়াচ্ছে করোনা : দুই শতাধিক বিজ্ঞানীর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাতাসে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ উঠে আসার কথা স্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির কোভিড-১৯ মহামারীর টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেছেন, নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পদ্ধতি হিসেবে বায়ুবাহিত সংক্রমণ ও অ্যারোসল সংক্রমণের সম্ভাব্যতার বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। মঙ্গলবার জেনেভায় প্রেস ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রধান বেনেডেত্তা অ্যালাগ্রাঞ্জি বলেছেন, করোনাভাইরাসের বায়ুবাহিত সংক্রমণের প্রমাণ হাজির হচ্ছে তবে এখনো তা চূড়ান্ত নয়। জনসমাগমস্থলে নির্দিষ্ট পরিবেশে, অতিরিক্ত মানুষ, বদ্ধ, আলো-বাতাস প্রবেশের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার মতো পরিবেশে বায়ুবাহিত সংক্রমণের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র : করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার এমন দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দফতর হোয়াইট হাউজ। এমন সময়ে দেশটি এমন দাবি করল যখন বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তেরও রেকর্ড তৈরি হয়েছে দেশটিতে। এখনো অধিকাংশ রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ে
মিসরে চিকিৎসকদের ওপর ধরপাকড় : মিসরে করোনা নিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে চিকিৎসকদের ওপর ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছেন সাংবাদিকরাও। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন চিকিৎসক ও ছয়জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও মুখ না খুলতে শাসিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের মুখ বন্ধ রাখা কিংবা শাস্তির মুখোমুখি হওয়া; এ দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলেছে। সম্প্রতি মিসরের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লেখার পর একজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়। সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে অনলাইনে পোস্ট করার পর একজন ফার্মাসিস্টকে তার কাজ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান জানতে চাওয়ার পর দেশটির একজন পত্রিকার সম্পাদককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট করোনায় আক্রান্ত : মহামারীর সঙ্কটকে শুরু থেকেই উপেক্ষা করে আসা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যিনি বলেছিলেন, ‘কিছু মানুষ মরবেই, এটাই জীবন।’ জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে ভুগতে থাকা বোলসোনারো সোমবার চতুর্থবারের মতো তার নমুনা পরীক্ষা করান। তাতে তার করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকিকে ছোট করে দেখিয়ে মহামারীর শুরু থেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করে আসছিলেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট, যে কারণে তাকে সমালোচিত হতে হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ভাইরাস ঠেকাতে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানা এবং লকডাউনের বিরোধিতা করে আসা বোলসোনারো তার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের সাথেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।
পুরোপুরি লকডাউনে মেলবোর্ন : করোনাভাইরাস সংক্রমণ হঠাৎ অনেক বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্নে নতুন করে পুরোপুরি লকডাউনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মধ্যকার সীমান্ত বন্ধের কয়েক ঘণ্টা আগেই লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়। ছয় সপ্তাহ এই লকডাউন চলবে। এর আওতায় মেলবোর্নের ৫০ লাখ অধিবাসীকে ঘরে থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে কঠোর লকডাউন কার্যকর হবে। মানুষজন এ সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে পারবে না। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেগুলো থেকে মানুষ কেবল খাবার নিয়ে যেতে পারবে। জিম, স্যালুন সব বন্ধ থাকবে। বাসাতেও দুইজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। স্কুলগুলো থাকবে ছুটিতে।
কেনিয়ায় স্কুল বন্ধ ২০২১ সাল পর্যন্ত : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় সব স্কুল আগামী বছর জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। দেশটিতে স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা সাধারণত নেয়া হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। চলতি বছরের সেসব পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।
কলকাতার ৪৫ অতিসংক্রমিত এলাকায় লকডাউন : কলকাতাসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে করোনার সংক্রমণ এখনো বেশ দাপটেই বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। বাড়ছে দুর্ভোগ, মারা যাচ্ছে মানুষ। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পৌরসভা অতিসংক্রমিত এলাকাগুলো আবার লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা পৌর এলাকার ৪৫টি অতিসংক্রমিত এলাকাসহ রাজ্যের বিভিন্ন কনটেনমেন্ট জোনে বহাল হবে এই কড়া লকডাউন। রাজ্য সরকার বলেছে, এখন আর লকডাউন মানছে না বহু মানুষ। মাস্ক না পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এ থেকে রক্ষা পেতে রাজ্য সরকার কলকাতাসহ রাজ্যের সব অতিসংক্রমিত এলাকায় কড়া লকডাউন বহাল রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধের তালিকায় আরো ৩ রাজ্য : করোনাভাইরাসের তাণ্ডব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলসহ মধ্য আমেরিকার ৩৭ স্টেটে। যেসব স্টেট স্বাস্থ্যবিধি অবজ্ঞা করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, সমুদ্রসৈকত, রেস্টুরেন্ট চালু করেছিল, সেগুলোতে এখন প্রতিদিনই বাড়ছে করোনারোগীর সংখ্যা। এর শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, আরিজোনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট স্টেটের করোনা পরিস্থিতি মাসাধিককাল যাবৎ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেলওয়ারে, ক্যানসাস এবং ওকলাহোমা স্টেটকেও নিষিদ্ধের তালিকায় নিলো এই তিন স্টেট। এ নিয়ে মোট ১৯ স্টেট এলো এ তালিকায় অর্থাৎ এসব স্টেট থেকে কেউ এলে তাদেরকে অবশ্যই ১৪ দিনের স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে। এর আগে আরো ১৬ স্টেটকে এ তালিকায় নেয়া হয়। স্টেটগুলো হচ্ছে : আলাবামা, আরকানসাস, আরিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আইওয়া, আইডোহো, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারলিনা, নেভাদা, সাউথ ক্যারলিনা, টেনেসি, টেক্সাস এবং ইউটাহ।
চীনের বিউবনিক প্লেগে উচ্চঝুঁকি নেই : চীনের উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করে সংক্রমণ দেখা দেয়া বিউবনিক প্লেগে এই মুহূর্তে উচ্চঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেখানে অসুখটিকে ‘ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। গত শনিবার চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের বায়ান্নুর শহরের একটি হাসপাতালে বিউবনিক প্লেগ রোগী শনাক্তের পরের দিনই জরুরি সতর্কতা জারি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূর্যের তাপে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি কমে : ইডেনবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা নতুন এক গবেষণায় দেখেছেন, প্রাকৃতিক অতি- বেগুনি রশ্মি এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ব্যাপারে সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার তারতম্য হলে, তাপমাত্রা ভিন্ন হলে, আর্দ্রতাভেদে এবং অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অতিবেগুনি রশ্মি করোনাভাইরাসে মৃতের হার কমানোর ব্যাপারে প্রভাব ফেলে। গবেষকরা দেখেছেন, সূর্যের আলো রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে রক্তচাপ কমে যায়। সে কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। অতি বেগুনি-রশ্মি যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে। আর ইংল্যান্ডে ৪৯ শতাংশ ও ১৯ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে অতি-বেগুনি রশ্মি।

 


আরো সংবাদ