০৩ ডিসেম্বর ২০২০

বিশ শতাংশের নিচে নামছে না শনাক্ত

এক দিনে মৃত্যু ৩৪, শনাক্ত ৩,৫০৪; সুস্থতার হার ৪০.৫৪ শতাংশ; প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত করোনা চিকিৎসক ১৬,৪০৩ জন
শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত মা শাহনাজ আক্তারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যান তাসনিমা। কিন্তু সেখান থেকে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে যাওয়ার পথে অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসক শাহনাজ আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। ইনসেটে মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাসনিমা : নয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে দৈনিক মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর দৈনিক করোনা রোগী শনাক্তের হারও বিশ শতাংশের নিচে নামছে না। গতকাল শনিবার নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার তিন শতাংশ বেশি।
২৬ জুন এই হার ছিল ২১ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২৫ জুন ছিল ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২৪ জুন এই হার ছিল ২১ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। ২৩ জুন ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ২২ জুন ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ২১ জুন ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ২০ জুন ২৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, ১৯ জুন ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও ১৮ জুন ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৩৪ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৬৯৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৫০৪ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১৮৫ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৫৪ হাজার ৩১৮ জন। এই সময়ে আরো এক হাজার ১৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৪ হাজার ৩১৮ জন।
অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা গতকাল শনিবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সবশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ১৫৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সাত লাখ ১২ হাজার ৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা বিবেচনায় শনাক্ত রোগীর হার ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ। এই পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এই পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৭ শতাংশ।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও দুইজন নারী। তাদের ৩০ জন হাসপাতালে মারা গেছেন, চারজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন।
মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন ১৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, সিলেট বিভাগের চারজন, রংপুর বিভাগের দুইজন ও খুলনা বিভাগের একজন।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭৫ জন, বিপরীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চার হাজার ২২৫ জন হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসিউতে রয়েছেন ১১২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭২৬ জন। তাদের নিয়ে বর্তমানে ১৪ হাজার ২৬৭ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৯১৩ জন।
বুলেটিনে ডা: নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তে দেশে আরো একটি নতুন পরীক্ষাগার চালু হয়েছে। চট্টগ্রামে শেভরন ক্লিনিক্যাল ডায়াগনস্টিক প্রাইভেট লিমিটেড নামে নতুন এ পরীক্ষাগার চালু হওয়ায় দেশে এখন ৬৭টি পরীক্ষাগারে কোভিড-১৯ পরীক্ষা হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি গবেষণাগার থেকে নমুনা সংগ্রহের প্রতিবেদন দিয়েছে, যার ফলাফল জানান ডা: নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, পাঁচটি বেসরকারি পরীক্ষাগার, দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দু’টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তাদের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয়নি। কাজেই শনিবার ৫৮টি পরীক্ষাগার থেকে পাওয়া নমুনার ফলাফল দেয়া হয়েছে।
বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে এক কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৪ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো একজন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৪০৩ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।
বরিশালে উপসর্গ নিয়ে দুই রোগীর মৃত্যু: বরিশাল ব্যুরো জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজিরপুর উপজেলার ইউনুস হাওলাদার (৫০) ও এর আগে রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরীর রূপাতলী এলাকার ফরিদা বেগম (৪৫) মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত দুইজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ৮৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৩৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। জেলায় নতুন করে আরো ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩৭৮ জন।
কুষ্টিয়ায় আরো একজনের মৃত্যু: কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইদিল বিশ্বাস (৮২) নামে আরো এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গরুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা: এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৫ জুন নমুনা পরীক্ষা করা হলে ইদিল বিশ্বাস করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্র্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যান। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা পজিটিভ সাতজনের মৃত্যু হলো।
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরে গতকাল শনিবার আরো ৪৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় ১৫ জন, হাইমচরে ৯ জন, হাজীগঞ্জে ছয়জন, ফরিদগঞ্জে ছয়জন, চাঁদপুর সদরে পাঁচজন, মতলব দক্ষিণে পাঁচজন ও কচুয়ায় তিনজন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮০০ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ২১৫ জন। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বগুড়ায় সাংবাদিকসহ আরো চারজনের মৃত্যু: বগুড়া অফিস জানান, বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন প্রবীণ সাংবাদিকসহ তিনজন এবং উপসর্গ নিয়ে একজন মারা গেছেন। তাদের তিনজন করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল এবং একজন টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ হাসপাতালে মারা যান। অন্য একজনের তথ্য জানা যায়নি। এ নিয়ে জেলায় সরকারি হিসাবে করোনায় মারা গেছেন ৪৭ জন এবং মোট আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৯ জন। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩২২ জন।
শুক্রবার রাতে বগুড়া প্রেস ক্লাব ও বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রবীণ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইদুজ্জামান সরকার তারা (৭০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার রাত ৯টায় বগুড়া করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি বগুড়ার সাপ্তাহিক হাতিয়ার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুতে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়া প্রেস ক্লাব, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন, বগুড়া ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বগুড়া জেলা কমান্ড শোক প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে বগুড়ায় তিনজন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।
এ ছাড়া শুক্রবার মধ্যরাতে মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে মারা গেছেন জেলার গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী সরকার পাড়ার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম (৪৫)। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের বিলহামলা বাজারের মুদি দোকানি বিমল সাহা (৫০) শুক্রবার বিকেলে মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মুজাহিদ ও বিমলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওই হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার খায়রুল বাশার মোমিন।
নতুন আক্রান্ত ৬৭ জন : গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া জেলায় আরো ৬৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তাাফিজুর রহমান তুহিন জানান, আক্রান্তদের মধ্যে সদরেই রয়েছেন ৫৬ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৯ জন। অন্য উপজেলার মধ্যে শেরপুরে চারজন, শিবগঞ্জে তিনজন, ধুনটে দুইজন, শাজাহানপুর ও কাহালুতে একজন করে।
জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জামালপুরে নতুন করে আরো ১৭ জনের দেহে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, র্যাব সদস্য, এলজিইডি, গণপূর্ত অধিদফতর ও ওষুধ কোম্পানির চাকরিজীবী ও কয়েকজন সাধারণ পরিবারের সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১ জন, মাদারগঞ্জে দুইজন এবং সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একজন করে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। এ নিয়ে জামালপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪২ জনে। জামালপুরে সর্বশেষ ১৯ জনসহ মোট ২২৬ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে আটজন।
খুলনায় উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু: খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গতকাল শনিবার এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগাভিটার ইসমাইল হাওলাদারের স্ত্রী রওশন আরা নামের ওই মহিলা মারা যান। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ড. মুন্সী রেজা সেকেন্দার জানান, দুই দিন ধরে জ¦র, কাশি ও শ^াসকষ্ট নিয়ে গত শুক্রবার রাত ৯টায় রওশন আরা খুমেকের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার বেলা ১টায় তার মৃত্যু হয়।
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে কুমেক হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন মারা গেছেন। কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: মুজিবুর রহমান শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশীদ (৬৩)। উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরা হলেন- জেলার বুড়িচং উপজেলার বারবী মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (৬০), সদর দক্ষিণের সেকান্দর মিয়ার ছেলে মোসলেম উদ্দিন (৬৫) এবং আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার এলাকার ইকবাল মজুমদারের ছেলে তানভীর মজুমদার (৪০)।
টাঙ্গাইলে উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু: টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে করোনার উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি ভূঞাপুরের ঘাটান্দিতে। জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত শুক্রবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া পুলিশ ও চিকিৎসকসহ নতুন করে আরো ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শুধু মির্জাপুরেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত পুলিশ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫২৮ জনে। এ দিন আরো ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুরে সর্বোচ্চ ১৮ জন, টাঙ্গাইল সদরে একজন এবং দেলদুয়ারে একজন। তাদের মধ্যে মির্জাপুরে দুইজন পুলিশ সদস্য, একজন চিকিৎসক ও একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৮২ জন এবং চিকিৎসাধীন আছেন ৩৩৫ জন।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে গত শনিবার আরো ৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট এক হাজার ৯৮০ জনের করোনা শনাক্ত হলো। গতকাল শনিবার নতুন আরো আটজন সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬১৭ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যায়নি। জেলায় মোট মারা গেছেন ৪৬ জন। সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, শনিবার নতুন শনাক্ত ৫৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ১১ জন, লৌহজং উপজেলায় ৯ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ৯ জন, গজারিয়া উপজেলায় ১০ জন রয়েছেন।
রাজবাড়ী সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীতে গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৫৭ জন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮৮ জনে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে এখানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। সুস্থ হয়েছেন ৯৫ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ২৮ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১০ জন, পাংশায় তিনজন, কালুখালিতে ১৪ জন ও গোয়ালন্দে দুইজন রয়েছেন।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী একজনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সরকারি হিসাবে এটিই সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু। মৃত ব্যক্তির নাম অনিল বিশ্বাস (৬৮)। তার বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার রতেœশ্বরপুর এলাকায়। গত ২২ জুন বিকেলে শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ওই দিন রাতে তার শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ২৩ জুন বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। গত শুক্রবার তার রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরায় এ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় নতুন করে আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শ্যামনগর কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা, শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক ডা: হাইকুল ইসলাম রয়েছেন।
চট্টগ্রামে এক দিনে পাঁচজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৯: চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ১৫৯ জন। গতকাল শনিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের পাঁচটি ল্যাবে ৮৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে ১৫৯ জনের। তাদের মধ্যে মহানগরীর বাসিন্দা ৮২ জন। বাকি ৭৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ২৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত হয় ৬২ জনের। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই ল্যাবে পজিটিভ শনাক্ত হয় ২১ জনের। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ২৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত হয় ৪৩ জনের। বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত হয় সাতজনের। এ ছাড়া কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে চট্টগ্রামের ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে আরো দুইজনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। তবে এদিন চট্টগ্রামের বেসরকারি শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি ল্যাবের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত সাত হাজার ৬২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কারো সুস্থ হওয়ার তথ্য নেই। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৭১৬ জন।
গাজীপুরে কোভিড হাসপাতালে ভর্তিকালে বৃদ্ধের মৃত্যু: গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তির সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ গতকাল শনিবার মারা গেছেন। তার নাম আব্দুল লতিফ (৮৪)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার মনসুরপুর এলাকার মৃত জৈয়ন উদ্দিনের ছেলে। গাজীপুরের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা: রফিকুল ইসলাম জানান, কোভিড-১৯ শনাক্ত আব্দুল লাতিফ নামের ওই ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার প্রচ- শ্বাসকষ্টসহ করোনা সংক্রমণের অন্যান্য উপসর্গ ছিল। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। এ দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে লকডাউন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কুমিল্লায় আক্রান্ত তিন হাজার ছাড়াল: কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লায় নতুন করে ৮০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে কুমিল্লা জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৭৪ জন। কুমিল্লা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দেবিদ্বারে ১৪ জন, মনোহরগঞ্জে ছয়জন, হোমনায় ২১ জন, দাউদকান্দিতে ১২ জন, চান্দিনায় ৯ জন, তিতাসে আটজন, লাকসামে চারজন ও চৌদ্দগ্রামে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ৮১ জন সুস্থসহ এ পর্যন্ত এক হাজার ২৭২ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল লাকসামে একজন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৮৮ জন।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জন। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জেলার সাতটি উপজেলায় এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৩৪৮ জন।
ফুলতলা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, খুলনার ফুলতলায় একই দিনে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের আরএমও ডা: মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট ১৮ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে আক্রান্তদের বাড়ি পুলিশ লকডাউন করে।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নতুুন করে আরো ছয়জনসহ মোট ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করে সুস্থ হয়েছেন ১৫৯ জন। মৃত্যু হয়েছে চারজনের।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, মাদীপুরের শিবচর উপজেলায় নতুন করে আরো ১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে শিবচর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শিবচর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব রয়েছেন। এ নিয়ে শিবচরে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১০৮ জন।
রাজশাহী বিভাগে আরো চারজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
রাজশাহী ব্যুরো জানান, রাজশাহী বিভাগে আরো চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিভাগের বগুড়া জেলায় তাদের মৃত্যু হয়। এ দিন বিভাগজুড়ে আরো ২৪৩ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিভাগজুড়ে এ পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। সর্বোচ্চ ৪৭ জন মারা গেছেন বগুড়ায়। সর্বশেষ শনিবারও এ জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীতে সাত, নওগাঁয় চার, নাটোরে এক, সিরাজগঞ্জে তিন এবং পাবনায় আটজন মারা গেছেন।
শুক্রবার নতুন শনাক্ত ২৪৩ করোনা রোগীর মধ্যে ৬৭ জনই বগুড়ার বাসিন্দা। সমানসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে জয়পুরহাটে। এ ছাড়া এ দিন রাজশাহীতে ৬৩, নওগাঁয় চার, সিরাজগঞ্জে ২৯ এবং পাবনায় ১৩ জনের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ দিন নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন রোগী শনাক্ত হননি। এ পর্যন্ত বগুড়ায় মোট দুই হাজার ৬৬৯, রাজশাহীতে ৪৭৪, জয়পুরহাটে ৩২৪, নওগাঁয় ৩২৭, সিরাজগঞ্জে ৩৬১, পাবনায় ৪২৮ জন, নাটোরে ১৫৫ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮৯৯ জন। এর মধ্যে নওগাঁর ২০৫ জন, জয়পুরহাটের ১৩৬ জন, বগুড়ার ৩২২ জন, নাটোরের ৫৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৪ জন, রাজশাহীর ৬৮ জন, সিরাজগঞ্জের ১৮ জন এবং পাবনার ৪১ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। এখনো হাসপাতালে আছেন ৫২৯ জন।
রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে নুরু মোল্লা (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার ভোর ৬টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাঈদ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নুরু মোল্লার বাড়ি উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায়। ডা: সাঈদ আল মামুন জানান, গত ১১ জুন তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত শুক্রবার ভোর ৬টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দিনাজপুরে একজনের মৃত্যু, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু আরেকজনের
দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলার মাহেরপুর তেতরা এলাকায় জয়নাল আবেদীন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর তিন দিন পর নমুনা পরীক্ষায় গতকাল শুক্রবার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ নিয়ে সরকারিভাবে ১১ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘোড়াঘাটে একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক এবং একজন নারী পুলিশ পরিদর্শকের স্বামীর করোনায় মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্য বিভাগে খাতায় রেকর্ড করা হয়নি। এ দিকে গতকাল পর্যন্ত নতুন করে আরো আটজন শনাক্তসহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জন। অন্য দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার বিরামপুরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিরামপুর উপজেলার কসবা সাগরপুর গ্রামে নিজ বাসায় তার মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুরে এক দিনে চারজন চিকিৎসকসহ সর্বোচ্চ ৫৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭২ জন। আক্রান্তদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত মোট ২১৭ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা কন্ট্রোল রুমের সমন্বয়ক ডা: আবদুর রশিদ গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানিয়েছেন, জেলায় এক দিনে চারজন চিকিৎসক ও অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ নতুন সর্বোচ্চ ৫৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরো ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৭৬ জনে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: হরগোবিন্দ শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ নতুন করে ১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শাফিন জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৩ জন এবং একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সেলিম এ তথ্য জানান। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বসুরহাট পৌরসভায় ছয়জন, সিরাজপুর ইউনিয়নে একজন, চরকাকড়া ইউনিয়নে একজন এবং মুছাপুর ইউনিয়নে একজন।
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, রূপালী ব্যাংক নলতা মোবারকনগর শাখার ম্যানেজার ও মা-মেয়েসহ কালিগঞ্জে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। এ নিয়ে কালিগঞ্জে মোট ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন।
ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের ঝিকরগাছায় নতুন করে আরো তিনজন ব্যক্তির শরীরে করোনা পজিটিভ এসেছে। নতুন এই তিনজনসহ উপজেলায় মোট ৩০ জনের শরীরের করোনা শনাক্ত হয়েছে।


আরো সংবাদ