ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে আতিফ আসলামের কণ্ঠ এখনো সমান পরিচিত। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে ভারতে কোনো গান প্রকাশ করেননি সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম। রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারতীয় সঙ্গীতজগত থেকে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে এত বছর পরেও ভারতের অনুরাগীরা তার গান শুনছেন। আর সেই টানই যেন তাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার ভারত-অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খোলেন আতিফ। তার দাবি, ভারতে তার নতুন গান না পৌঁছোলেও অনুরাগীরা নানা উপায়ে তার সঙ্গীত শুনে চলেছেন। এমনকি, ভিপিএন ব্যবহার করে গান শোনার পাশাপাশি কেউ কেউ সিডি কপি করে অন্যদেরও দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
যদিও ‘পাইরেসি’কে সমর্থন করেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন গায়ক। তার কথায়, সঙ্গীতকে তবু আটকে রাখা কঠিন। যেখানে পৌঁছোনোর কথা, কোনো না কোনোভাবে সেখানেই পৌঁছে যায়।
তবে ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীদের পাকিস্তানে কাজের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আতিফের বক্তব্য, ভারত যেমন পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অর্থাৎ দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের আঁচ যে সঙ্গীতের দুনিয়াতেও পড়েছে, তা নিয়ে রাখঢাক করেননি তিনি।
তবে বিতর্কের জায়গাতেই আতিফের বক্তব্যে রয়েছে অন্য সুর। ভারতে কাজ করতে না পারার জন্য তার কোনো ক্ষোভ নেই। বরং এই বাধাকেই নিজের সঙ্গীতজীবনের একটি মোড় হিসেবে দেখছেন তিনি।
তার মতে, বলিউডে প্লেব্যাক গানের অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা না এলে হয়তো নিজের গান তৈরির দিকে এতটা মন দিতে পারতেন না।
আতিফের কথায়, সেই অর্থে নিষেধাজ্ঞার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞ। কারণ এই পরিস্থিতিই তাকে নিজের সঙ্গীতসত্তাকে আরো গভীরভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে।
ভারতের সাথে আতিফের সঙ্গীত-সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘ দিনের। ‘তু জানে না’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরে হোনে লাগা হুঁ’, ‘জিনা জিনা’, ‘আদত’, ‘ওহ লমহে ওহ বাতে’-এর মতো গান তাকে ভারতীয় শ্রোতাদের কাছে বিপুল জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ২০১৮ সালের ‘বাগী ২’-এর ‘ও সাথী’ তার গাওয়া শেষ দিকের বলিউড গানগুলির অন্যতম।
কাজের দরজা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু শ্রোতার দরজা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি- আতিফের বক্তব্যে সেই কথাটিই যেন আরো একবার স্পষ্ট হল। তার আক্ষেপ নেই কর্মক্ষেত্র নিয়ে, আছে শুধু দূরে থাকা অনুরাগীদের জন্য। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা



