বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রফতানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় এক দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সাত দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রফতানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য এক শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে চার দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রফতানি তিন দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রফতানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে তিন দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রফতানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি তিন দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রফতানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রফতানি কমেছে। এসব বাজারে রফতানি চার দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ছয় দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসাথে মোট রফতানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সঙ্কোচন দেখা গেছে।
পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রফতানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রফতানি দুই দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রফতানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রফতানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রফতানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বাসস



