বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়নে চলমান ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ (জেডিএস) প্রকল্প’-এর জন্য ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ইয়েন অনুদান দেবে জাপান সরকার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি সাত লাখ টাকা। আর মার্কিন ডলারে প্রায় ৩৫ লাখ ১০ হাজার।
এ বিষয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে ‘নোট বিনিময়’ এবং ‘অনুদান চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে জানা গেছে। ২০০১ থেকে ২০৩০ সময়কালে জেডিএস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শেরেবাংলা নগরস্থ ইআরডিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ‘নোট বিনিময়’ ও ‘অনুদান চুক্তি’-তে স্বাক্ষর করেন। জাপান সরকারের পক্ষে ‘নোট বিনিময়’-এ স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং ‘অনুদান চুক্তি’-তে স্বাক্ষর করেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় জাপান সরকারের অনুদানের অর্থে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার কর্মকর্তা, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে পড়াশোনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে এসব কর্মকর্তার জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদারে জেডিএস প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের আওতায় ৫০৫ জন কর্মকর্তা মাস্টার্স এবং ১২ জন কর্মকর্তা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জেডিএস প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান সরকার প্রায় ৩৪.২১ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান হিসেবে ব্যয় করেছে। যা প্রায় ২১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের সমতুল্য।
ইআরডি বলছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে জাপান একক বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে দেশটি। সহজ শর্তের ঋণের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনুদান ও কারিগরি সহায়তাও দিয়ে আসছে জাপান। মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সহায়তা রয়েছে। এছাড়া ‘ঋণ মওকুফ তহবিল’-এর আওতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেও সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি। নতুন অনুদানের ফলে বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের জাপানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ অব্যাহত থাকবে, যা দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরো অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



