পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে এডিবির ১৭.৫ ডলার ঋণ

বাংলাদেশের এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেছেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও অধিক নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পেতে সাহায্য করে। একইসাথে জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ, নারীর অংশগ্রহণকে সমর্থন এবং বাংলাদেশের অধিক স্থিতিস্থাপক ও স্বল্প-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে উত্তরণকে ত্বরান্বিত করে।

বিশেষ সংবাদদাতা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণের জন্য ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি সহজ শর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এটি দেশের অন্যতম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এডিবি ঢাকা অফিস জানায়, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও গণ ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার ২৬টি প্রত্যন্ত উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হবে। যার ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবারসহ অতিরিক্ত অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। যা ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা যোগ করবে। কম ক্ষয়কারী পরিবাহী ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন তৈরি করা হবে এবং এক হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি সাবস্টেশন, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি জোনাল মেরামত কর্মশালার আধুনিকায়ন করা হবে। এই উন্নয়নগুলো সিস্টেমের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিচালন ব্যয় কমাবে, গ্রিডের কার্যকারিতা বাড়াবে, বছরে অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন এড়াবে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করবে।

বাংলাদেশের এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেছেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও অধিক নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পেতে সাহায্য করে। একইসাথে জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ, নারীর অংশগ্রহণকে সমর্থন এবং বাংলাদেশের অধিক স্থিতিস্থাপক ও স্বল্প-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে উত্তরণকে ত্বরান্বিত করে।

এডিবি বলছে, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১৮.৪ লাখ মানুষ বাস করে। যাদের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। যদিও বাংলাদেশ জাতীয়ভাবে ৯৯ শতাংশ বিদ্যুতায়ন অর্জন করেছে, এই অঞ্চলে গ্রিড সংযোগের হার এখনো অনেক কম, খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ। ২০৩২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলটির গ্রিড সংযোগ ৬৮শতাংশে উন্নীত হবে। সৌর ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ারসহ ভবিষ্যৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গ্রিড প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি অন্তত ৩০টি সৌরশক্তিচালিত পানীয় জলের সুবিধা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করবে। যা এমন সব সামাজিক সংগঠন দ্বারা পরিচালিত হবে যেখানে নেতৃত্বের পদে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী থাকবেন। এটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সেবায় নিয়োজিত স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির এবং ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিচ্ছন্ন শক্তি সরবরাহের জন্য সৌর ব্যাকআপ সিস্টেমও প্রদান করবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি কমপক্ষে এক হাজার জনকে জীবিকা প্রশিক্ষণ, ২০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক ইনকিউবেশন সহায়তা এবং ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতের কর্মজীবন ও দুর্যোগ-সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রদানের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। এটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমসহ তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র ও তিনটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সেবা প্রদানকে শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মীদের গ্রাহক সেবা, বিতরণ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং সহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।

এডিবির অর্থায়ন ছাড়াও, প্রকল্পটি জাপান সরকারের অর্থায়নে এডিবির মাধ্যমে ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলার অনুদান পাবে। বাংলাদেশ সরকার তিন কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বিপিডিবি চার কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রদান করবে।