বিদেশী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি দিতে পারবে ব্যাংক

আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে চুক্তি বা কার্যাদেশ পাওয়া বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, বিভাগ, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প বা ক্রয় কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের প্রয়োজন হতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক |সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকল্প বা কাজ পাওয়া বিদেশী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থানীয় প্রকল্প ও ক্রয় কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ইস্যুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি-১) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের শাখাকে (এডি) নির্দেশনা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প পাওয়া বিদেশী কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সহজ করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সার্কুলারে জানানো হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে চুক্তি বা কার্যাদেশ পাওয়া বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, বিভাগ, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প বা ক্রয় কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের প্রয়োজন হতে পারে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে অবস্থানরত বা নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা ক্রয় কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যু করতে পারবে। তবে এর জন্য বিদেশী কোম্পানিটিকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চুক্তি বা কার্যাদেশ পেতে হবে।

তবে এ সুবিধা নিতে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাথে করা চুক্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি গ্রহণের বিধান থাকতে হবে।

এছাড়া, যে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যু করা হবে, তার সাথে কাজ পাওয়া বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও বৈধ চুক্তিভিত্তিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকতে হবে। এ সম্পর্কের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলও সংরক্ষণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর ফলে ব্যাংকের যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তা পর্যাপ্ত জামানত বা পাল্টা নিরাপত্তার মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে হবে। ঝুঁকির ধরন ও পরিমাণ, ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত বিবেচনায় নিয়ে জামানত বা পাল্টা নিরাপত্তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

চুক্তিতে গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর কারণে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য খরচ, দায় ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য যথাযথ অর্থ ফেরত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

কোনো গ্যারান্টি কার্যকর হওয়ার পর অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হলে বিদেশী কোম্পানিকে চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, প্রচলিত ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতি ও সতর্কতামূলক সীমা মেনে ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যু করতে হবে। এর মধ্যে নির্ধারিত একক ঋণগ্রহীতা ঋণসীমাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নিতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, গ্যারান্টি কার্যকর হওয়ার পর উদ্ভূত দাবি সাধারণত টাকার সমপরিমাণ অর্থে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে দরপত্র বা চুক্তির নথিতে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের সুনির্দিষ্ট শর্ত থাকলে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় দাবি নিষ্পত্তি করা যাবে।

নতুন এই সার্কুলারে স্থানীয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অনুকূলে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্যারান্টি ইস্যু-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৪-এর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বাসস