গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগ আদায়ে ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম’ গঠনের পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যাংকটি। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক করতে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংক রেজ্যুলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগ দ্রুত আদায় ও পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্প্রতি ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফলোআপ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপি বিনিয়োগ আদায় ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করা হয়েছে।
এদিকে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে ‘কাস্টমার ফার্স্ট : পেমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস এক্সেলেন্স’ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য আমানতকারীদের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত স্কিম ও ব্যাংকের প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন যাচাই করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের মুনাফার ওপর কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চলমান ব্যক্তিক হিসাব থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ম অনুযায়ী মুনাফাসহ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
তবে যেসব গ্রাহক মেয়াদি হিসাব বন্ধ করে ‘এক্সিট’ নিতে চান, তারা ১ সেপ্টেম্বরের পর লিখিত ঘোষণার মাধ্যমে শুধু প্রাথমিক জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ব্যাংক জানায়, ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেয়া হবে না। তবে প্রাথমিক জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত নিশ্চিত করতে কর্তন করা বার্ষিক আবগারি শুল্ক ব্যাংক বহন করবে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার আমানতকারী প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত আলোচনা করছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আশা, বিনিয়োগ আদায় জোরদার, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।



