ব্যাসেল-৩ তারল্য কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশোধিত ওপেন মার্কেট অপারেশনস (ওএমও) নির্দেশিকার আলোকে নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) রিপোর্টিং কাঠামো সংশোধন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি জারি করা ডিওএস সার্কুলার নম্বর-১ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ব্যাসেল-৩ কাঠামোর আওতায় লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (এলসিআর) এবং নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) বজায় রাখতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং ব্যাংকগুলোর তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে এনএসএফআর চালু করা হয়েছিল।
এতে আরো বলা হয়, দেশের অর্থবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএমডি সার্কুলার নম্বর-২ এর মাধ্যমে ওপেন মার্কেট অপারেশনস (ওএমও) নির্দেশিকা সংশোধন করেছে। সংশোধিত নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপো (সিবি রিপো), স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ)-এর হিসাবায়ন ও প্রতিবেদন পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব লেনদেনকে এখন সরাসরি সম্পদ বিক্রয় হিসেবে নয়, বরং জামানত ভিত্তিক ঋণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
এ কারণে বিদ্যমান এনএসএফআর রিপোর্টিং কাঠামো পর্যালোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।
সংশোধনী অনুযায়ী, ইন্টারব্যাংক রিপোকে ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়’ শিরোনামের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জামানতভিত্তিক ঋণ/অর্থায়ন’ নামে নতুন একটি উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সিবি রিপো, এসএলএফ, আইবিএলএফ, অ্যাসিউরড রিপোসহ অনুরূপ সব সুবিধা রিপোর্ট করতে হবে।
এছাড়া সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজকে ‘অবরুদ্ধ নয়’ এবং ‘অবরুদ্ধ’ এই দুই শ্রেণিতে পৃথকভাবে রিপোর্ট করার বিধান রাখা হয়েছে। একইসাথে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ ও আমানত সংক্রান্ত দু’টি প্রতিবেদনের শিরোনামও সংশোধন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সার্কুলারের সাথে সংযুক্ত সংশোধিত এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট ব্যবহার করে সব তফসিলি ব্যাংককে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও দাখিল করতে হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাবকাল থেকে নতুন টেমপ্লেট কার্যকর হবে এবং এটি বিদ্যমান রিপোর্টিং ফরম্যাটের পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে।
তবে ২০১৫ সালের ডিওএস সার্কুলার নম্বর-১ এর আওতায় এনএসএফআর সম্পর্কিত অন্যান্য নির্দেশনা, প্রতিবেদন উপাদান ও বিধান অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩০ জুন থেকে কার্যকর বলে এতে জানানো হয়। বাসস



