রফতানি উন্নয়ন তহবিল পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলার জারি

একইসাথে রফতানি অর্থায়নে ছয় মাস মেয়াদি সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) ভিত্তিক নতুন সুদহার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক |সংগৃহীত

রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) পরিচালনা সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে। একইসাথে রফতানি অর্থায়নে ছয় মাস মেয়াদি সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) ভিত্তিক নতুন সুদহার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জারি করা এ সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ২০১৭ সালের এফই সার্কুলার নম্বর-৪৫ এবং ইডিএফ-সংক্রান্ত পরবর্তী সব নির্দেশনা বাতিল হয়েছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় আগের মতোই অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী রফতানিকারকদের কাঁচামাল ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণ আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১ (এফআরটিএমডি-১) এ তহবিল পরিচালনা করবে।

নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো তাদের নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (এনএফসিডি) হিসাবের স্থিতির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করে যোগ্য আমদানি অর্থায়ন করতে পারবে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলো ডিল-টু-ডিল রেস্ট্রিকটেড মুদারাবা চুক্তির মাধ্যমে শরিয়াহসম্মতভাবে ইডিএফ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে ছয় মাস মেয়াদি সোফরের সাথে বার্ষিক শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ যোগ করে পুনঃঅর্থায়ন করবে। আর ব্যাংকগুলো উৎপাদনমুখী রফতানিকারকদের ছয় মাস মেয়াদি সোফরের সাথে সর্বোচ্চ এক দশমিক পাঁচ শতাংশ যোগ করে ঋণ দিতে পারবে।

এছাড়া আমদানি মূল্য পরিশোধ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়নের অর্থ প্রাপ্তি পর্যন্ত সময়ের ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত বার্ষিক এক শতাংশ চার্জ আরোপ করতে পারবে।

ঋণ পরিশোধে বিলম্ব নিরুৎসাহিত করতে নির্ধারিত সময়ের পর বকেয়া ইডিএফ ঋণের ওপর প্রচলিত ঋণ সুদহারের অতিরিক্ত চার শতাংশ হারে দণ্ডসুদ আরোপ করা হবে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে শরিয়াহ নীতিমালা অনুযায়ী সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে।

নতুন মাস্টার সার্কুলারে বিভিন্ন রফতানি খাতের জন্য ইডিএফ ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ দুই কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ লিনেন, ফ্যাব্রিকস, অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ফ্ল্যাক্সা) সদস্যদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ এক কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অন্যান্য কয়েকটি রফতানি খাতের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা এক কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্যদের জন্য ৫০ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র রফতানিখাতগুলোর জন্য ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৃথক ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে অর্থায়নের পরিমাণ আমদানিকারকের আগের ১২ মাসের আমদানি কার্যক্রম অথবা পাঁচ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে যেটি কম, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

কার্যক্রম আরো সহজ করতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত ফরম-এ এবং ইলেকট্রনিক হিসাবপত্রসহ ইডিএফ ঋণের আবেদন জমা দিতে হবে। পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করার আগে ব্যাংকগুলোকে ডিমড এক্সপোর্টারদের যোগ্যতাও যাচাই করতে হবে।

ইডিএফ ঋণের পরিশোধের মেয়াদ আগের মতো ১৮০ দিন বহাল রাখা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে পারবে। এ জন্য ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১০ দিন আগে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট বিল অব এন্ট্রি সংযুক্ত থাকতে হবে।

নতুন সার্কুলারে অনুবর্তিতা (কমপ্লায়েন্স) সংক্রান্ত বিধানও আরো কঠোর করা হয়েছে। কোনো রফতানিকারক নির্ধারিত ১২০ দিনের মধ্যে রফতানি আয় দেশে আনতে ব্যর্থ হলে তিনি পরবর্তী সময়ে ইডিএফ সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, যেসব উৎপাদনমুখী রফতানিকারকের পূর্ববর্তী ইডিএফ দায় অন্য কোনো অর্থায়নের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে, তারা বকেয়া রফতানি আয় দেশে না আনা বা আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে ইডিএফ সুবিধার জন্য অযোগ্য থাকবেন।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ইডিএফ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ কোনো অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক সব বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন করে ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন মাস্টার সার্কুলারের মাধ্যমে ইডিএফ পরিচালনার বিধিবিধানকে আরো সহজ, অভিন্ন ও কার্যকর করা হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে একই ধরনের নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের রফতানি অর্থায়ন আরো শক্তিশালী হবে। বাসস