কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)–এর তহবিল থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। একই সাথে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের নেতারা এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার দাবি করেন, সম্প্রতি এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেআইবির তহবিল থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৪ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল। পরে ওই কাজের বকেয়া বিল পরিশোধের অংশ হিসেবে বৈধ ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় অর্থ প্রদান করা হয়। এখানে কোনো ধরনের জবরদস্তি বা অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।
এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব বলেন, একটি অসাধু চক্র কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে চাপ দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটির নির্বাচিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। তবে পরবর্তীতে দিলিপ কুমার সরকার নিজেই আরেকটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, তাকে কোনো ভয়ভীতি দেখানো হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ভবনের সংস্কারকাজের বকেয়া বিল হিসেবেই পরিশোধ করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দিলিপ কুমার সরকার বলেন, তার ভিডিওর একটি অংশ কেটে প্রচার করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড. কামরুজ্জামান কায়সার আরো বলেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের প্রবীণ কৃষিবিদদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। তখন আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনায় পুরো ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যের অপব্যাখ্যার ফল বলে প্রতীয়মান হয় এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেটিকে আবার সামনে এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অপপ্রচার কেআইবি এবং এ্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।
এ্যাবের আহ্বায়ক জানান, সংগঠনের ছয় সদস্যের কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপপ্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিগগিরই বিএনপির উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ওই সদস্যের নাম ড. শফিকুল ইসলাম শফিক বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের সদস্য শাহাদাত হোসেন চঞ্চল, প্রফেসর ড. জামশেদ আলম এবং নুরুন্নবী শ্যামল উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বিএনপিপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব এর সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি অডিও ভাইরাল হয়। বিএনপিপন্থী কৃষিবিদদের আরেকটি গ্রুপ এই অডিও ভাইরাল করে। এ নিয়ে কৃষিবিদদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়।



