দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে উৎস কর, ভ্যাট, শুল্ক ও সারচার্জ বাড়ানোর ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু খাতে ভর্তুকি ও করছাড় দেয়ার ফলে কমতে পারে পণ্যের দাম।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাজাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে
বাজাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে |সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বছরের বাজেটর আকার হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বলা হচ্ছে, টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে এটি সব থেকে বড় বাজেট প্রস্তাবনা।

নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে উৎস কর, ভ্যাট, শুল্ক ও সারচার্জ বাড়ানোর ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু খাতে ভর্তুকি ও করছাড় দেয়ার ফলে কমতে পারে পণ্যের দাম।

এছাড়া বাজেটে দেশের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য অর্থাৎ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা দিতে নানা ধরনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর কোন পণ্যের দাম কমতে পারে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কৃষিপণ্য

প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এতে করে কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে।

শিশুখাদ্য

শিশু খাদ্যের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যার ফলে দেশের বাজারে আমদানিকৃত শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।

সার ও কীটনাশক

ব্যবসায়ী পর্যায়ে সকল সারের ওপর প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সব ধরনের কীটনাশক আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহ দিতে কীটনাশক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর পুরোপুরি মওকুফ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ফলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশকের দাম কমতে পারে।

হার্টের রিং ও চোখের লেন্স

আমদানিকৃত হার্টের রিং বা স্টেন্ট ও চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহের ক্ষেত্রে যোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে হার্টের রিং বা স্টেন্টের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং চোখের প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের মূল্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

এছাড়া ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত নতুন নয় ধরনের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ডায়ালাইসিস ফিল্টার

কিডনির রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘ব্লাড টিউবিং সেট ফর হেমোডায়ালাইসিস’র আমদানি পর্যায়ে থাকা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যয় কমতে পারে।

ইলেকট্রিক গাড়ি

দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন এবং ইলেকট্রিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য শুল্ক কর রেয়াতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া প্লাগ ইন হাইব্রিড যানবাহন আমদানিতে গাড়ির ধরনভেদে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ফলে এ ধরনের গাড়ির দাম কমতে পারে।

স্থানীয় প্রসাধনী পণ্য

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস শিল্পের দুইটি কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত প্রসাধনী পণ্যের দাম কমতে পারে।

গিটার, পিয়ানো

মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট যেমন - গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন আমদানিতে বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের পণ্যের দাম কমতে পারে।

ক্যামেরা ও প্রজেক্টর

উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের দাম কমতে পারে।

মসলা ও খেজুর

দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মসলা এবং খেজুরের ওপর পাঁচ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, ফলে দাম কমতে পারে।

সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স

দেশে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তি

মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজন, এবং কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনার ইত্যাদি প্রযুক্তি পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় মোবাইল ফোন শিল্পের ২২ ধরনের কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পয়েন্ট অব সেলস মেশিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এ পণ্যের অগ্রিম করও শূন্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মোবাইল সিম

মোবাইল সিমের উপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাথে আইসিটিকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে এ খাতে ট্যাক্স, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমানে টেলিকম সেক্টরে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাদের জন্য সুবিধা

প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করছেন এমন কর্মীদের উৎসাহ দিতে দেশের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেবা আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।