বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গতিশীল করা হবে।
আজ মঙ্গলবার নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। তিনি নবনিযুক্ত সচিবকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচয়পর্বে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচয়পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরো দক্ষতার সাথে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরো বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।
নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর সংস্থা সমূহের সক্ষমতা, চলমান এগ্রিমেন্ট, পলিসি ও ট্রিটি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব মিশনকে আরো লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস


