১৩ জুলাই ২০২০

জীবন ও জীবিকার বিষয়টি এখন মুখোমুখি : খলীকুজ্জমান

-

করোনার কারণে জীবন ও জীবিকার বিষয়টি এখন মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, শিরোনামে মানুষ বাঁচানোর কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে বরাবরের মতো এবারের প্রস্তাবিত বাজেটেও প্রবৃদ্ধিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন খাদ্যসাহায্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু আরো কিছু দিন তা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যার প্রতিফলন বাজেটে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল বুধবার খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মে ‘২০২০-২১ বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ এতে আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।
করোনা মহামারীর কারণে ইতোমধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ হার ২০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বাজেট পর্যালোচনা করে বক্তারা বলেছেন, তিনটি কর্মসূচিতে উপকারভোগী বৃদ্ধি ছাড়া নগর দরিদ্র এবং করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নেই। এ ছাড়া সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও ডাটাবেজ করার জন্য পরিকল্পনা এবং বরাদ্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সমস্যা তো রয়েছেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে অনেক সতর্ক হয়ে ব্যয় করতে হবে মন্তব্য করে ড. এ কে এনামুল হক বলেন, অতি দরিদ্র মানুষ করোনার কারণে দ্বিগুণ হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। যদিও প্রতি বাজেটের বরাদ্দই খরচ হয় মূলত অর্থবছরের ছয় মাস পর থেকে। সরকারের সদিচ্ছার অভাব না থাকলেও আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থাতেই রয়েছে সমস্যা। দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ থাকা দরকার ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ করে করোনা টেস্টের খরচটা সরকার তাদের দিতে পারত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ভাতা দিয়ে করোনাকালে দরিদ্র মানুষকে রক্ষা করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে তাদের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত আচরণগত পরিবর্তন করতে হবে। তাহলেই মানুষ আস্তে আস্তে কাজে ফিরতে পারবে। এসব কাজে তাই সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এনজিওগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেটে এর দিকনির্দেশনা থাকতে পারত।
এ বছর সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার, প্রবাসী আয়ের অংশ, বেসরকারি ব্যাংকের করোনাকালের সুদের অংশ ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জানিয়ে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, তাহলে এগুলোকে ‘সুরক্ষা’ বলা যাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। সামাজিক নিরাপত্তার উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী সাহায্য দেয়া হয়, কিন্তু কর্মসূত্রে তিনি অন্য জায়গায় থাকতে পারেন। ফলে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রক্রিয়াটি সংশোধন করা দরকার বলে মন্তব্য করেন ড. নাজনীন।
নগর দারিদ্র্যের বিষয়টি আলোচনায় উত্থাপন হওয়ায় বক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, শহরের বস্তিবাসী দরিদ্রদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল বাজেটে। জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যক্রমগুলো যত দ্রুত সম্ভব ডিজিটালাইজেশন করা দরকার। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি এ সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য যে ১০০ কোটি টাকা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ, তা খুবই অপ্রতুল এবং এখানেও নগর দারিদ্র্য উপেক্ষিত। সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধন করতে হবে।
আলোচনাপত্র উপস্থাপনকালে মহসিন আলী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা মহামারীর কারণে সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় সব প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্কভাতার আওতায় আনা হবে, এর ফলে পাঁচ লাখ নতুন উপকারভোগী যোগ হবে। একইভাবে বিধবাভাতায় যুক্ত হবেন তিন লাখ ৫০ হাজার নতুন উপকারভোগী। প্রতিবন্ধীভাতার আওতা দুই লাখ ৫৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ লাখ করা হবে। এই বাবদ বাড়তি ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ