ভারতে ককরোচ মুভমেন্ট : শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান শিবিরের

নেতৃবৃন্দ বলেন, গুলি, লাঠিচার্জ কিংবা দমনপীড়নের মাধ্যমে তরুণ সমাজের ন্যায়সংগত ও মেধাভিত্তিক আন্দোলন কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। আমরা ভারত সরকারকে অবিলম্বে দমনপীড়নের পথ পরিহার করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে গঠনমূলক সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতে চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার নজিরবিহীন প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এ চালানো দমনপীড়নকে মোদি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসাথে দমনপীড়ন বন্ধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘তেলাপোকা’ বা ‘পরজীবী’ বলে তাচ্ছিল্য করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় নজিরবিহীন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনার ফলে সৃষ্ট গভীর মানসিক ট্রমার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ২১ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ছাত্রবিক্ষোভ ভারতের বিজেপি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব ও জবাবদিহিহীনতার নগ্ন রূপ উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়দাতা বিজেপি সরকার আজ ভিন্নমত দমনে পুলিশি রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে এবং কর্পোরেট পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা না নিয়ে ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা তাদের পতনের পথকে আরো ত্বরান্বিত করছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে বর্বর হামলা চালিয়েছে, তাতে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানোয় প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে জোরপূর্বক তুলে নেয়া এবং আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ ছাত্রনেতাদের গ্রেফতার করা স্বৈরাচারী মানসিকতার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। আমরা অবিলম্বে আটকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গুলি, লাঠিচার্জ কিংবা দমনপীড়নের মাধ্যমে তরুণ সমাজের ন্যায়সংগত ও মেধাভিত্তিক আন্দোলন কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। আমরা ভারত সরকারকে অবিলম্বে দমনপীড়নের পথ পরিহার করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে গঠনমূলক সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।