গাইবান্ধায় বিতর্কিত শিবমূর্তি অপসারণের দাবি খেলাফত আন্দোলনের, লংমার্চের হুঁশিয়ারি

‘হযরত শাহজালাল রহ: এ দেশ থেকে গৌরগোবিন্দের দোসর ও মূর্তি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওলি-আউলিয়ার বাংলাদেশে মূর্তির রাজত্ব কায়েমের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মন্দিরের বাইরে নির্মিত ৩০ ফুট উচ্চতার বিতর্কিত শিবমূর্তি অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। অন্যথায় গাইবান্ধা অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাদ আসর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে মন্দিরের বাইরে বিশাল আকৃতির শিবমূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী বলেন, বিগত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ভারতের ইন্ধনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের বাইরের চত্বরে ৩০ ফুট উঁচু এবং ৩ টন ওজনের দেশের সর্বোচ্চ আদি যুগের বিশাল শিবমূর্তি তৈরি করা হয়েছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক ও আশঙ্কাজনক।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেখানে ৫৩ ফুট উচ্চতার আরেকটি কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলেও আরেকটি দানবীয় বিষ্ণুমূর্তি নির্মাণাধীন রয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার আস্তানা তৈরির পাঁয়তারা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, এর নিরাপত্তা ও পাহারার অজুহাতে ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন হতে পারে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।

মাওলানা মিয়াযী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে অমুসলিমদের উপাসনালয় বা মন্দিরের ভেতরে মূর্তি স্থাপনে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনের পরপরই ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে মন্দিরের বাইরে দৃশ্যমান স্থানে এমন বিশাল মূর্তি নির্মাণের পেছনে কার ইন্ধন ও অর্থায়ন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ২৪-এর আন্দোলন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হলেও এবারের আন্দোলন বাংলাদেশকে মূর্তিমুক্ত করার আন্দোলন হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, একদিকে ভারতের বাবরি মসজিদসহ অসংখ্য মসজিদ ভেঙে দেয়া হচ্ছে এবং পুশইনের নামে বাংলাভাষী মুসলমানদের সীমান্তে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিনিয়ত সীমান্ত হত্যা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে বড় বড় মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ‘রামরাজ্য’ বানানোর পাঁয়তারা চলছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করা না হলে মূর্তিকে ‘হিন্দুস্তানে পুশইন’ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, হযরত শাহজালাল রহ: এ দেশ থেকে গৌরগোবিন্দের দোসর ও মূর্তি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওলি-আউলিয়ার বাংলাদেশে মূর্তির রাজত্ব কায়েমের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আশঙ্কাজনক হারে খুন, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে একসাথে ধর্ষণ ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। দেশের নাগরিকরা এখন নিজ ঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না। জনগণের জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতা মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মুফতি আশিক এলাহী আল মাদানী, মাওলানা মো: নুর রহমান, মো: শাহিন আলম চৌধুরী প্রমুখ।