জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানানোর জন্য ভারত সরকার সর্বদাই আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে হারিয়ে এখন তারা বিএনপিকে ব্যবহার করতে চায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ক্ষমতার আশায় বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। অথচ পিলখানা, শাপলা চত্বর, মোদি-বিরোধী আন্দোলন, জুলাই অর্থাৎ সকল গণহত্যার জন্য প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগ এবং পরোক্ষভাবে ভারত দায়ী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাগপা আয়োজিত ‘খুনি হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুই বছর আশ্রয় প্রদানের প্রতিবাদে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ র্যালি শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বিজয়নগর থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ র্যালিটি প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘যে ভারত গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুই বছর আশ্রয় দেয়, সেই ভারত আমার বন্ধু নয়। যে ভারত সীমান্তে হত্যা করে, অবৈধ পুশইন করে, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে, সেই ভারত আমার বন্ধু নয়। যে ভারত উসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, সেই ভারত আমার বন্ধু নয়।’
জাগপা মুখপাত্র বলেন, ‘দিল্লিতে আওয়ামী লীগের প্রেস কনফারেন্স হয়। ভারত সরকার চাইলেই এই দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। দিল্লি থেকে আওয়ামী লীগকে দিয়ে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার ভারতীয় ষড়যন্ত্র বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। খুনি হাসিনাকে বরণ করে নেয়ার জন্য আমরা ফাঁসির দড়ি নিয়ে প্রস্তুত আছি। ভারতকে যারাই প্রভু মানবে তাদের বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চলবে। কথাবার্তা পরিষ্কার, ভারতীয় আধিপত্যবাদ চলবে না, আগ্রাসন চলবে না।’
ঢাকা মহানগর জাগপা সভাপতি এস এম জিয়াউল আনোয়ারের সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ভিপি মুজিবুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল, যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিউল আনোয়ার, জাগপা ছাত্রকাফেলা সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, দফতর সম্পাদক আরিয়ান শরীফ ও ঢাকা মহানগর সভাপতি ইমরান হুসাইন রাহুল।



