দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে ‘সিন্ডিকেটেড, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
রোববার (২৮জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন ‘সিন্ডিকেটেড সংবাদ’ পরিবেশন করছে। এহেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশপূর্ণ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অর্জিত সুনাম ও সুখ্যাতি বিনষ্ট করা যাবে না।
জামায়াতকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দল দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনকল্যাণমুখী নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলটি বহুমুখী অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রতিটি জাতীয় সঙ্কটময় মুহূর্তে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বজনবিদিত। জাতীয় সংসদের প্রতিটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল এবং দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশবাসীর প্রশংসা অর্জন করেছেন। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জামায়াতের জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড জনমানসে গভীর আস্থা তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। চারদিকে দুর্নীতির বেড়াজাল থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বিগত সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে আরো বলেন, অতীতে কারা দেশে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করেছিল, কারা পদলেহন ও দালালি করে জুলুমের রাজতক্ত সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং কারা নির্লজ্জ তোষামোদের মাধ্যমে দেশের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, তা দেশবাসীর স্মৃতিতে অত্যন্ত জাজ্বল্যমান।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই জাতীয় অসত্য, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক ‘সিন্ডিকেটেড সংবাদ’ পরিবেশন করে সচেতন দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না। দেশের সচেতন জনগণ এমন অপপ্রচারে কর্ণপাত করবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানান।



