বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, দখলদারিত্ব, মাদক এবং মদের বার উচ্ছেদে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এ এলাকাকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় আদর্শ নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাদ জুমা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা প্রয়োজন।
মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ মানুষকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একইসাথে তিনি জনগণকে চাঁদাবাজদের কোনো অর্থ না দিয়ে কেবল সরকার নির্ধারিত কর পরিশোধের আহ্বান জানান।
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, দরিদ্র, এতিম ও পিতৃহারা কিশোরদের অপরাধচক্র বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। এসব কিশোরকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
মাদককে সব ধরনের অপরাধের মূল কারণ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ যেসব এলাকায় মাদক কারবার বিস্তার লাভ করেছে, সেখানে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
একইসাথে লালমাটিয়া এলাকায় মদের বার পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নর্দমা পরিষ্কারসহ নাগরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া রাহমানিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আশরাফুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামানসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।



