আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ রোববার সন্ধ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে আবুল কাসেম ফজলুল হকের বাসায় শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের একজন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং বিশেষ করে মেহনতি মানুষের পক্ষে আজীবন নিবেদিতপ্রাণ একজন বিশিষ্ট চিন্তককে হারালাম। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অত্যন্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক, জাতীয় অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।’
‘ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। আমি তার ছাত্র ছিলাম। এ দেশের মুক্তচিন্তার বিকাশ, মানুষের মনন গঠন এবং প্রগতিশীল চিন্তার প্রসারে তার অবদান অনন্য। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রবন্ধ, সাহিত্য সমালোচনা ও চিন্তাধারা বিশেষ করে সমাজের মেহনতি মানুষের পক্ষে, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখা মানুষদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার লেখাগুলো প্রগতিশীল পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।’
মন্ত্রী বলেন, “তার ছেলে দীপনকে যখন উগ্রবাদী একটি চক্র নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তখন আমি তার সরকারি বাসভবনে গিয়েছিলাম। সে সময় তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমার সন্তানকে আমি জাতির কল্যাণে উৎসর্গ করলাম।’ একজন পিতার মুখে এমন কথা বলা কত বড় আত্মত্যাগের পরিচয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি কখনো নিজের জন্য ভাবেননি; তিনি সবসময় মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য ভেবেছেন।”
‘তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী বা নেতা ছিলেন না। কিন্তু তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার চিন্তা, আদর্শ ও কর্ম আমাদের সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে।’
মন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে পরপারে শান্তি দান করুন। একই সাথে তার পরিবারের সদস্য, স্বজন, ছাত্র, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী যেন এই শোক সহ্য করার শক্তি পান, সেই দোয়া করছি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়টি আমি এইমাত্র জানতে পেরেছি। আমি এখনই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। তাকে পাওয়া গেলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককেও আমি অনুরোধ করব, তিনি যেন আজ রাতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন। আমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথেও কথা বলব, যাতে বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।



